ফাইল ছবিরাজস্থানের ধোলপুর জেলায় এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে প্রকাশ্যে এল। অবৈধ সম্পর্কের জেরে এক মহিলা তাঁর ভাগ্নের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের স্বামীকে খুন করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দীর্ঘ ১১ মাসের তদন্ত শেষে ভিসেরা রিপোর্ট ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার পর্দাফাঁস হয়েছে।
ঘটনাটি ধোলপুর জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকার ভৈনসাখ গ্রামের। ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৪৫ বছর বয়সি শঙ্কর সিং লোধার মৃত্যু হয়। সেই সময় সন্দেহ করা হয়েছিল, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মদের বোতল উদ্ধার হওয়ায় প্রাথমিকভাবে বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ ময়নাতদন্ত করে দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেয় এবং তদন্ত শুরু করে।
অবৈধ সম্পর্ক থেকেই ভয়াবহ ষড়যন্ত্র
মৃতের দাদা রাজেশ সিং পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শঙ্কর সিং তাঁর ভাগ্নে হরেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে খামারে যান। সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ হরেন্দ্র বাড়ি ফিরলেও শঙ্কর ফেরেননি। পরদিন সকালে খামার থেকে শঙ্কর সিংয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
তদন্ত এগোতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ১১ মাস পরে পাওয়া ভিসেরা রিপোর্টে বিষক্রিয়ার স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। তদন্তে জানা যায়, শঙ্কর সিংয়ের স্ত্রী রুবি এবং তাঁর ভাগ্নে হরেন্দ্র সিংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দু’জনের মধ্যে নিয়মিত ফোনে কথাবার্তা চলত। পরিবার ও শঙ্কর সিং বিষয়টি জানতে পারায় দাম্পত্যে অশান্তি শুরু হয়।
মদের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে খুন
পুলিশের দাবি, এই সম্পর্ক ও পারিবারিক বিরোধ থেকেই শঙ্কর সিংকে খুনের ছক কষে রুবি ও হরেন্দ্র। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি হরেন্দ্র তার মামাকে খামারে নিয়ে যায়। এবং সেখানে মদের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে তাঁকে পান করায়। এর ফলেই মৃত্যু হয় শঙ্কর সিংয়ের। পরে গ্রামে ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়ানো হয় যে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
খুনের পর রুবি ও হরেন্দ্র হরিয়ানায় পালিয়ে যায়। এবং সেখানে বিয়ে করেন। তদন্ত চলাকালীন ভিসেরা রিপোর্ট, মোবাইল কল ডিটেইলস ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের জোরালো প্রমাণ পায়।
গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত
মামলার তদন্তকারী আধিকারিক সিও কৃষ্ণরাজ জাঙ্গিদ জানান, ভিসেরা রিপোর্টে বিষক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত রুবিকে আদালতে পেশ করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ভাগ্নে হরেন্দ্র সিংকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জেরার সময় দু’জনেই খুনের পরিকল্পনা ও অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।