কোটি টাকার সম্পত্তি হাতাতেই দিল্লির অধ্যাপিকাকে খুন? বধর্মান থেকে গ্রেফতার ভাড়াটিয়া দম্পতিদিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে রহস্য ভেদ করল পুলিশ। প্রফেসর দেবস্মিতা পালের খুনের ঘটনায় এরাজ্যের বর্ধমান থেকে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৪ জুন দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে নিজের ফ্ল্যাট থেকে দেবস্মিতার দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের দাবি, কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে দিল্লি গিয়ে এই খুন করে ওই দম্পতি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে আনা হচ্ছে।
মৃত দেবস্মিতা পাল,দিল্লির শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা ছিলেন। গত বুধবার পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের ‘সত্যম অ্যাপার্টমেন্টস’-এর ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় বর্ধমান থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস নামে ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের নাবালক ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের স্থানীয় আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতরা বর্ধমানের বাসিন্দা। দেবস্মিতার সঙ্গে দেখা করার নাম করেই তাঁরা দিল্লি এসেছিলেন। ২০২২ সালে বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় বিবাহবিচ্ছেদ হয় দেবস্মিতার। তার পর থেকে তিনি ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। তাঁর প্রাক্তন স্বামী বেঙ্গালুরুতে থাকেন। বুধবারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মুখে মাস্ক পরে ওই দম্পতি দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে যাচ্ছেন। একটি প্রাইভেট ক্যাবে কিছু ব্যাগ নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। সন্দেহ এড়াতে লিফটের বদলে সিঁড়ি দিয়ে ছয় তলায় ওঠেন। সঙ্গে ছোট ছেলে থাকায় কেউ সন্দেহ করেনি। চেনা লোক হওয়ায় দেবস্মিতা নিজেই দরজা খুলে দিয়েছিলেন। এর পর তাঁকে খুন করা হয়। খুনের ঠিক ৩০ মিনিট পর জামাকাপড় বদলে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসেন অভিযুক্তরা। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ক্যাবটিতে চড়েই তাঁরা পালিয়ে যান। দেখে সন্দেহজনক লাগায়, পুলিশ ওই ক্যাবচালককে আটকে অভিযুক্তদের পরিচয় জানতে পারে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান অধ্যাপিকা দেবস্মিতার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই তাঁকে খুন করা হয়েছিল। দেবস্মিতার ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই অভিযুক্ত দম্পতিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকায় দেবস্মিতা পালের দাদুর বাড়ি থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাসকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, ধৃত দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে দেবস্মিতার দাদুর বাড়িতেই ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দাদুর মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে কোটি টাকার একটি সম্পত্তি পেয়েছিলেন দেবস্মিতা। ধৃত দম্পতি সেই বাড়িরই ভাড়াটে ছিলেন এবং বাড়িটি দখল করার চেষ্টা করছিলেন। অন্য দিকে, দেবস্মিতাও বাড়িটি খালি করার জন্য তাঁদের চাপ দিচ্ছিলেন। সেই কারণেই দেবস্মিতাকে সরিয়ে সম্পত্তি হাতানোর ছক কষেন তাঁরা।