শ্রীশৈলমে বেসরকারি লজে একই পরিবারের ৫ জনের দেহ উদ্ধারতীর্থে গিয়ে দুটি রুম বুক করলেন। তারপর সেই রুমেই ৫ জনের ঝুলন্ত দেহ। তিনজন মহিলার দেহ ঝুলছে সিলিং ফ্যানে। এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও এক কিশোরের দেহ ঝুলছে বাথরুমে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, গোটা পরিবার বিপুল ঋণের বোঝায় ডুবে ছিল। দিনের পর দিন আর্থিক অবসাদের জেরে পরিবারের সবাই মিলে আত্মঘাতী হয়েছেন। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের নান্দিয়ালে একটি লজে।
একই পরিবারের ৫ সদস্যের ঝুলন্ত দেহ
একটি বেসরকারি লজের ঘর থেকে উদ্ধার হল একই পরিবারের ৫ সদস্যের ঝুলন্ত দেহ। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন তিন মহিলা, এক পুরুষ এবং এক কিশোর। ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের নান্দিয়াল জেলার শ্রীশৈলমে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা শ্রীসত্য সাঁই জেলার বাট্টালাপল্লি গ্রামের বাসিন্দা। গত ২৮ জুলাই একটি অটো করে তাঁরা শ্রীশৈলমে আসেন। এরপর একটি বেসরকারি ভাড্ডেরা সত্রে ১১ নম্বর ঘর ভাড়া নেন।
ঘর থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে
পরিবারের সদস্যদের প্রায় তিন দিন ঘরের বাইরে দেখা না যাওয়ায় সন্দেহ হয় লজ কর্তৃপক্ষের। এর মধ্যেই ঘর থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এরপর পুলিশ এসে দরজা খুলতেই সামনে আসে ভয়াবহ দৃশ্য। ঘরের ভিতরের বাথরুমে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাঁচজনের দেহ দেখতে পান তদন্তকারীরা। মৃতদের নাম সুধাকর (৩৬), গোগুলা আদিলক্ষ্মী (৫০), মল্লেশ্বরী (৪৫), শ্রীদেবী (৩৩) এবং মণিকণ্ঠ (১৫)।
আর্থিক সমস্যার কারণেই এমন চরম সিদ্ধান্ত
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আর্থিক সমস্যার কারণেই এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। যদিও ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই আপাতত তদন্ত এগোলেও, অন্য কোনও সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আত্মাকুরের ডিএসপি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুধাকর অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর দুই বোনের বিয়ে হয়েছিল। তবে স্বামীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাঁরা দু’জনেই ফের বাপের বাড়িতে থাকছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
পাঁচটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে বাট্টালাপল্লিতে। ঠিক কী কারণে একই পরিবারের পাঁচজন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।