CCTV ফুটেজ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ সামনে আসতেই পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে শিশুটির বাবার উপর।Greater Noida Murder Case: ছেলেকে খুনের পর নিজের গলায় ব্লেড চালাল বাবা! গ্রেটার নয়ডায় সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জের। নিজের ১৩ বছরের একমাত্র ছেলেকেই খুন করার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের কাসনা থানার সিরসা গ্রামে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, খুনের পর আত্মীয়দের ফাঁসানোর চেষ্টাও করেন অভিযুক্ত। নিখোঁজ হওয়ার দু’দিন পর গ্রামের পুকুর থেকে উদ্ধার হয় কিশোরের দেহ। CCTV ফুটেজ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ সামনে আসতেই পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে শিশুটির বাবার উপর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরের নাম সুধাংশু। বয়স ১৩। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। পরিবারের সঙ্গে গ্রেটার নয়ডার সিরসা গ্রামের ৬ শতাংশ কলোনিতে থাকত। অভিযুক্ত বাবা প্রদীপ ওরফে পাপ্পি। অভিযোগ, গত ৭ মে ছেলেকে গাড়িতে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর একাই বাড়ি ফেরেন।
পরিবারের সদস্যরা সুধাংশুর খোঁজ করলে প্রদীপ প্রথমে দাবি করেন, ছেলেকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে এসেছেন। রাত পর্যন্ত ছেলে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বারবার প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত বাবা ভিন্ন ভিন্ন গল্প বলতে শুরু করেন। কখনও বলেন বন্ধুর বাড়িতে রয়েছে, কখনও আবার অন্য আত্মীয়ের কাছে থাকার কথা বলেন।
ক্রমশ সন্দেহ বাড়তে থাকায় সুধাংশুর কাকা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বাড়ির আশপাশে লাগানো CCTV ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে দেখা যায়, সুধাংশুকে শেষবার বাবার সঙ্গেই বেরোতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ফেরার কোনও ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
এরপরই প্রদীপকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, বারবার বয়ান বদলাতে থাকেন অভিযুক্ত। কখনও দাবি করেন, গুলিস্তানপুর গ্রামের এক পরিচিতের বাড়িতে ছেলে রয়েছে। কিন্তু পুলিশ সেখানে গিয়ে কোনও তথ্য পায়নি। শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহ আরও গাঢ় হয়।
তদন্ত এগোতেই সিরসা গ্রামের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় সুধাংশুর দেহ। ময়নাতদন্তের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়, এটি খুনের ঘটনা। তদন্তকারীদের অনুমান, পারিবারিক সম্পত্তি বিবাদের জেরেই এই খুন। অভিযোগ, নিজের ভাই এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এমন পরিকল্পনা করেছিলেন প্রদীপ।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, বাবা-ছেলের সম্পর্কের এমন পরিণতি কল্পনাও করা যায় না। একজন বাবা কীভাবে নিজের সন্তানকে খুন করতে পারেন, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধরা পড়ার ভয়েই পরে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন অভিযুক্ত। অভিযোগ, ব্লেড দিয়ে নিজের গলা কাটার চেষ্টা করেন তিনি। সেই ঘটনার ভিডিও স্থানীয় কয়েক জন মোবাইলে রেকর্ডও করেন। যদিও সময়মতো তাঁকে আটকানো হয়।
বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন অভিযুক্ত। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হবে।