অভিজিৎ দাস, স্ত্রী দেবযানী এবং মেয়ে সম্রাজ্ঞী। ছবি: বৈদ্যনাথ ঝাHowrah Murder Case: একই পরিবারের ৩ সদস্যের রহস্যমৃত্যু। শনিবার হাওড়ার লিলুয়ার ঘটনা। স্ত্রী-সন্তানকে খুন করে স্বামী আত্মাঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তের পর অনুমান। এই ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাস্তলে পৌঁছেছে লিলুয়া থানার পুলিশ।
লিলুয়ার বেলগাছিয়ায়
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, লিলুয়ার বেলগাছিয়ায় একই পরিবারে স্বামী-স্ত্রী সহ এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল এলাকায়। পেশায় ব্যবসায়ী অভিজিৎ দাস এবং তার স্ত্রী দেবযানী দাস-সহ বছর ১৩ কন্যা সম্রাজ্ঞী দাসের মৃতদেহ বাড়ির দোতোলার ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
মঙ্গলবারের পর দেখা যায়নি
এলাকায় গত মঙ্গলবার শেষ দেখা গিয়েছিল তাঁদের তিনজনকে। তারপর এদিন হঠাৎ বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। আর তখন এলাকার লোকেরা পুলিশে খবর দেয়। এবং ঘটনাস্থলে লিলুয়া থানার পুলিশ এসে দরজা ভাঙে।
তখন তাঁরা দেখেন অভিজিৎ দাস ঝুলন্ত অবস্থায়। এবং তার স্ত্রী দেবযানী ও কন্যা সম্রাজ্ঞীকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পায়। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বেলগাছিয়া অঞ্চলে।
এলাকাবাসীর ধারণা, ব্যবসায় মন্দা চলায় বা ধারদেনা থাকায় স্ত্রী এবং কন্যাকে হত্যা করে আত্মঘাতী হয়েছেন অভিজিৎবাবু। প্রাথমিক ভাবে এমনটাই জানা যাচ্ছে। যদিও পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে লিলুয়া থানার পুলিশ।
জামাই খুব ভাল, জানালেন শ্বশুর
মৃতের শ্বশুর জানিয়েছেন, এত ভাল জামাই কীভাবে যে এরকম ঘটনা ঘটাতে পারে, তা ভেবে পাচ্ছেন না। তাঁকে দেখেও কোন কিছু বোঝা যেত না। ওঁরা মাঝেমধ্যেই ফোন সুইচ অফ করে সপরিবারে বেড়াতে চলে যেত। তাই ভেবেছিল এবারও হয়তো তাই করেছে। তাই ফোন সুইচ অফ পেলেও তেমন উদ্বেগ হয়নি।
কিন্তু দিনের পর দিন সুইচ অফ পাওয়ার পর তারা আজই এই বাড়িতে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন সময় এখান থেকে ফোন যায় যে জামাই এরকম ঘটনা ঘটিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে শেষবার কথা হয়েছিল তাদের সঙ্গে।
গিয়েছিলেন হাসপাতালে
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে জামাই রুবি হাসপাতালে গিয়েছিল কোনও বন্ধুর মাকে দেখতে। সাতটা নাগাদ সাড়ে সাতটা নাগাদ তিনি ফোন করেন। ফোন ধরে তার নাতনি। বলে বাবা এখনও ফেরেনি।
এরপর সাড়ে আটটা নাগাদ তাঁকে ফোন করে জানাযন, কিছুটা জলে ভিজেছে। আমি যখন বলি মেয়েকে বল আদা দিয়ে চা করে দিতে। সেই শেষ কথা হয়েছিল। তারপর আর কোনও কথা হয়নি।
জামাই ব্যবসা করত। কিন্তু ব্যবসার জিনিসপত্র খুব বেশি শেয়ার করত না। কয়েকদিন আগে নাতনি অসুস্থ হয়। তখন তিনি ডাক্তার দেখানোর জন্য কিছু অর্থ সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু আর্থিক সমস্যা আছে এটা কোনও দিন বোঝা যেত না। জানান তিনি।
প্রতিবেশীদের দাবি
যদিও প্রতিবেশীরা জানান, লকডাউন এর ফলে ব্যবসার অনেকটাই ক্ষতি হয়েছিল। তার জন্য কিছু আর্থিক সমস্যা ছিল। এর জেরে এই খুন করে আত্মহত্যা বলে মনে করছে পুলিশ।