গোপন সম্পর্ক আর খুন, ভাইয়ের ক্রিকেটার বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় থেকেই শুরু সিয়া-চেতনের গল্প

পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। পুলিশের দাবি, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, গোপন যোগাযোগ এবং সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল এবং চেতন চৌধুরীর পরিচয়ের সূত্র ছিল সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েল।

Advertisement
গোপন সম্পর্ক আর খুন, ভাইয়ের ক্রিকেটার বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় থেকেই শুরু সিয়া-চেতনের গল্পকেতন আগরওয়াল হত্যা মামলা।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য।
  • পুলিশের দাবি, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, গোপন যোগাযোগ এবং সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল।

পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। পুলিশের দাবি, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, গোপন যোগাযোগ এবং সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল এবং চেতন চৌধুরীর পরিচয়ের সূত্র ছিল সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েল।

পুলিশ জানিয়েছে, চেতন চৌধুরী স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলতেন। সিয়ার দাদা সাহিলও একই ক্রিকেট মহলের পরিচিত মুখ ছিলেন। তদন্তে ২০০৪ সালের একটি পুরনো ক্রিকেট লিগের ভিডিও উদ্ধার হয়েছে, যেখানে সাহিল ও চেতনকে একই দলে খেলতে দেখা যায়। অর্থাৎ, দুই পরিবারের পরিচয় বহু বছরের পুরনো।

সেই সূত্রেই ভাইয়ের সঙ্গে ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে গিয়ে চেতনের সঙ্গে সিয়ার আলাপ হয়। প্রথমে সাধারণ বন্ধুত্ব থাকলেও সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। তদন্তকারীদের অনুমান, ২০২৫ সালের দীপাবলির সময় এক কমন ফ্রেন্ডের পার্টিতে আবার দেখা হওয়ার পর থেকেই দু'জনের সম্পর্ক নতুন মোড় নেয় এবং নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়।

তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) থেকে। পুলিশের দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন, এই ছয় মাসে সিয়া ও চেতনের মধ্যে মোট ২,০০৪টি ফোন কল হয়েছিল। দুই জনের কথোপকথনের মোট সময় প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা। এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এই দীর্ঘ কথোপকথনের মধ্যেই কি হত্যার পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল।

এদিকে, একই সময়ে পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে সিয়ার বিয়ে ঠিক হয়। আগামী নভেম্বর মাসে তাঁদের বিয়ের দিনও নির্ধারিত ছিল। দুই পরিবারই বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল। 

তদন্তের অংশ হিসেবে সিয়ার ভাই সাহিল গোয়েলকে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, সিয়া কখনও তাঁদের বলেনি যে সে এই বিয়ে করতে চায় না। যদি সে আপত্তির কথা জানাত, তবে পরিবার কোনওভাবেই বিয়ের আয়োজন এগিয়ে নিয়ে যেত না। ফলে পুলিশের ধারণা, পরিবারের অজান্তেই সিয়া ও চেতনের সম্পর্ক চলছিল।

Advertisement

পুলিশের দাবি, ঘটনার একদিন আগে, অর্থাৎ ১৭ জুন, পুনের লালনগরের একটি ক্যাফেতে প্রায় এক ঘণ্টা একসঙ্গে ছিলেন সিয়া ও চেতন। তদন্তকারীদের মতে, এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানেই সম্ভবত পরবর্তী পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছিল।

এর পরদিন, ১৮ জুন, কেতন, সিয়া এবং চেতন লোহাগড় দুর্গ এলাকায় যান। পুলিশের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সিয়া নির্দিষ্ট জায়গায় বসে সংকেত দেন এবং সেই ইঙ্গিত পেয়েই চেতন পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে কেতনকে খাদে ফেলে দেয়। প্রথমদিকে চেতন নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ ও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

তদন্তে ডিজিটাল প্রমাণ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের দাবি, সিয়া ও চেতন দু'জনেই নিজেদের মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট শুধু ডিলিটই করেননি, রিসাইকেল বিন থেকেও তা মুছে ফেলেছিলেন, যাতে কোনও তথ্য উদ্ধার করা না যায়। তবে দুটি মোবাইলই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মুছে যাওয়া তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তদন্তকারীদের আশা, উদ্ধার হওয়া চ্যাট থেকেই এই মামলার বহু অজানা প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।

এদিকে মামলাটি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে মহারাষ্ট্র সরকারও। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ কেতন আগরওয়ালের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, এই মামলায় বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে প্রবীণ আইনজীবী উজ্জ্বল নিকমকে নিয়োগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে গতি আনতে পুলিশ ছয়টি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। পরিবারের সদস্য, আত্মীয় এবং বন্ধুদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, এই কথিত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আর কেউ আগে থেকে জানতেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর অধরাই। সিয়া যদি কেতনকে বিয়ে করতে না চাইতেন, তাহলে কেন পরিবারকে তা জানাননি? ২,০০৪টি ফোন কলে কী আলোচনা হয়েছিল? ঘটনার আগের দিন ক্যাফের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল? হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট কেন মুছে ফেলা হয়েছিল? এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আর কেউ কি জানতেন?


 

POST A COMMENT
Advertisement