Ludhiana Murder Case: ড্রামে কাটা মাথা-বস্তায় লাশ, শিউরে উঠবেন লুধিয়ানার দেবিন্দর খুনের ঘটনায়

ঘটনার তদন্ত শুরু করেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে দেখে চিহ্নিত করে। হতদরিদ্র গ্রাফিক ডিজাইনার দেবিন্দরের বন্ধু শমশের সিংহ, ওরফে সেরা, এবং তার স্ত্রী কুলদীপ কউর। দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিবার ফুটেজ দেখে শমশেরকে শনাক্ত করে। পুরোনো টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধ থেকেই এই খুন, জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement
ড্রামে কাটা মাথা-বস্তায় লাশ, শিউরে উঠবেন লুধিয়ানার দেবিন্দর খুনের ঘটনায়

Davinder Kumar Murder Case: পঞ্জাবের লুধিয়ানায় ফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। জলন্ধর বাইপাসের কাছে একটি সাদা প্লাস্টিকের ড্রাম ও কয়েকটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হল ৩৫ বছরের দেবিন্দর কুমারের ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষ। এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াতেই পাশ দিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তির নজরে আসে বিষয়টি। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ড্রাম খুলতেই বেরিয়ে আসে মর্মান্তিক দৃশ্য। কয়েকটি অংশ আলাদা ব্যাগে ছড়ানো ছিল আশপাশে।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে দেখে চিহ্নিত করে। হতদরিদ্র গ্রাফিক ডিজাইনার দেবিন্দরের বন্ধু শমশের সিংহ, ওরফে সেরা, এবং তার স্ত্রী কুলদীপ কউর,  দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিবার ফুটেজ দেখে শমশেরকে শনাক্ত করে। পুরোনো টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধ থেকেই এই খুন, জানিয়েছে পুলিশ।

দেবিন্দর কুমার ভরতি কলোনির বাসিন্দা। গ্রাফিক ডিজাইনিং ও ডিজিটাল প্রিন্টিং মেশিনের কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে মুম্বই থেকে ফিরে আবার ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছিলেন। ৭ মাসের এক কন্যাসন্তান রয়েছে তাঁর। পরিবার জানিয়েছে, দেবিন্দর ছিল পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান। ৬ জানুয়ারি প্রিন্টিং মেশিন কেনার কথা বলে শমশেরের বাড়িতে যান তিনি।

পুলিশের দাবি, শমশের ও দেবিন্দর সেদিন বাড়িতে বসে নিষিদ্ধ মাদক ‘চিট্টা’ গ্রহণ করে। তার পরেই পুরোনো টাকার লেনদেন নিয়ে বচসা বাধে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই শমশের নৃশংসভাবে খুন করে দেবিন্দরকে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হত্যা করার আগে নেশাজাতীয় কিছু ইনজেকশনও দেওয়া হয়েছিল। মৃতদেহ কাটাছেঁড়া করতে হাত করাত ব্যবহার করা হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে দেহ ছ’ভাগে ভাগ করা হয়।

ড্রামের ভিতরে মাথা, অন্য ব্যাগে শরীরের কিছু অংশ পাওয়া গেছে। কিন্তু ডান হাতের খোঁজ মেলেনি। কিছু অঙ্গ পুড়িয়ে ফেলাও হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অদৃশ্য হওয়া অংশগুলি উদ্ধার করতে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চলছে। এতটাই ভয়াবহভাবে দেহচ্ছেদ করা হয়েছিল যে ফরেনসিক টিমকে আলাদা করে অংশ পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হয়েছে।

Advertisement

তদন্তের অংশ হিসাবে তিন সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে। ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভিতে ধরা পড়ে শমশেরের বাইকে করে ড্রাম বহনের দৃশ্য। স্ত্রী কুলদীপ কওর খুন-পরবর্তী দেহচ্ছেদ ও প্রমাণ লোপাটে সাহায্য করেছে বলে পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছে। অতিরিক্ত ডি সি পি সমীর ভার্মার নেতৃত্বে তদন্ত চলছে।

এদিকে দেবিন্দরের পরিবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ৭ মাসের শিশু কোলেই রেখে গেলেন বাবা। স্ত্রী বিধবা হলেন। পরিবার জানায়, বন্ধু শমশেরকে কখনও সন্দেহ করেনি তারা। দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার। এলাকাবাসীর মধ্যেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভয়াবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

 

POST A COMMENT
Advertisement