উলুবেড়িয়ায় জোড়া খুনকাটারি থেকে ঝরছে রক্ত। উন্মত্ত হয়ে ছুটছে লোকটা। দুটো খুন ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে। কুপিয়ে কুপিয়ে মেরে দিয়েছে স্ত্রী ও বড় ছেলেকে। ছোট ছেলেকে মারতে ছুটছে। এদিকে বাবার নৃশংস মূর্তি দেখে, বাচ্চাটি প্রাণভয়ে দৌড়চ্ছে। বাবা কাছে পেলেই কুপিয়ে দেবে। ঘটনাটি হাওয়ার উলুবেড়িয়া থানার বাণীতলার ঘটনা।
স্ত্রী ও ছেলে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল, সেই সময় এলোপাথাড়ি কোপ
বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর চল্লিশের প্রদীপ মুখোপাধ্যায় স্ত্রী ও দুই ছেলে মাকে নিয়ে থাকতেন। বেশ কিছুদিন ধরে সাংসারিক বিবাদ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই স্ত্রী ও ছেলেদের সঙ্গে প্রদীপের বিবাদ চলছিল। রাতে অপর্ণা মুখোপাধ্যায় (৩৮) বড় ছেলে প্রণব ও ছোট ছেলে আবিরকে নিয়ে ঘরে ঘুমোচ্ছিল। প্রদীপ ঘরের টালি খুলে ঘরের মধ্যে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী অপর্ণা ও বড় ছেলে প্রণবকে কাটারি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ
ছোট ছেলে আবির সেই সময় ঘর থেকে বেরিয়ে ছুটে পালাতে যায়, তাকেও কাটারি ছুড়ে মারে। কাটারির আঘাতে তার ডান ক্ষত হয়। ঘটনার পরই বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা পুলিশ প্রদীপকে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং প্রদীপের মা কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়কে আটক করেছে।
স্ত্রীকে নানা কারণে সন্দেহ করত প্রদীপ
প্রদীপের বড় মেয়ে পল্লবী অধিকারীর কথায়, 'মাকে সন্দেহ করত বাবা। ঝগড়া করত খুব। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ ছিল। বাবা সেরকম কাজ করত না। মা পরের বাড়ি কাজ করত। মা-ই সংসার চালাত। বাবা বলেছিল, ওদের মেরে আমি ভাত খাব। মা আর বড় ভাইকে কুপিয়ে দিয়েছে।' পুলিশ দুটি দেহ উদ্ধার করে শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে ময়না তদন্তের জন্য। ছোট ছেলে আহত। বাবার কাটারির ঘায়ে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পায়ে গভীর ক্ষত রয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, 'ও বউকে মেরেছে। ছেলেকে মেরেছে। আমি দেখলাম, ছোট ছেলেটাকে মারবে বলে ছুটছে। সেই সময় ওকে থামাতে গেলাম। আমাকে বলল, সরে যাও, না হলে তোমাকেও কুপিয়ে দেব।'