ধানবাদে নাবালিকার নরবলি? জঙ্গলের মধ্যে উদ্ধার হল নাবালিকার মুণ্ডহীন দেহ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ধানবাদের বালিয়াপুর থানা এলাকায়। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছএ। জানা গিয়েছে, স্থানীয় ধাংগিং বস্তি লাগোয়া জঙ্গল থেকে দেহ এবং মারাইথান এলাকার ছাতনিয়া ব্রিজ থেকে মুন্ডু পাওয়া গিয়েছে।
একটি প্ল্যাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে ধর থেকে আলাদা করা মুন্ডু পাওয়া গিয়েছে। মেয়েটির পেটের অংশটি জঙ্গলের অন্য অংশে পাওয়া গিয়েছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসা মাত্র স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান জঙ্গল লাগোয়া এলাকায়। সকলেরই চোখেমুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ। পুলিশ, ফরেনসিক টিম এবং ডগ স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, তল্লাশি চালিয়ে ক্রাইম সিন থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে কিছু ধূপকাঠি এবং পুজোর অন্যান্য সামগ্রী। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ, নরবলি দেওয়ার উদ্দেশেই নাবালিকার দেহ ও মুন্ডু আলাদা করা হয়েছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি, ক্রাইম সিন থেকে উদ্ধার হওয়া পুজোর সমাগ্রী নরবলি দেওয়ার কাজেই ব্যবহার করা হয়েছিল। কী কারণে ওই নাবালিকাকে এমন নৃশংস হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে, তা নিয়ে সবরকম অনুমান খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ফরেনসিক দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে একাধিক জিনিসের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ডগ স্কোয়াডকেও এর জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে।
নাবালিকার দেগ শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয় পরিবারের সদস্যদের। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, মৃতার বয়স ছিল ১৭ বছর। তারা গিরিধ বেনগাবাদ অঞ্চলের বাসিন্গা। তবে ধানবাদের মাহিয়াদহতে আত্মীয়দের সঙ্গে থাকছিল সে।
শহরের SP ঋত্তিক শ্রীবাস্তব বলেন, 'মেয়েটির বাবা গত সন্ধ্যাতেই তার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিলেন থানায়। একজনের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁকেও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।'
পুলিশ সূত্রে খবর, একটি ভাড়া বাড়িতে ওই ব্যক্তির সঙ্গে মেয়েটি লিভ ইন করছিল। এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, জাতপাতের কারণে ছেলেটির সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক গ্রামে মেনে নেওয়া হয়নি। একবার এই সম্পর্কের ইস্যুকে কেন্দ্র করে গ্রামে পঞ্চায়েতও বসেছিল। তারপর থেকেই ধানবাদের কর্মাতন্ড এলাকায় তাঁরা ভাড়া বাড়িতে লিভ ইন করতে শুরু করেছিল।
মীমাংসা করার জন্য সম্প্রতি থানায় ডাকার কথা ছিল দু'জনকে। কিন্তু তার আগেই ভয়ঙ্কর পরিণতি হল নাবালিকার। ওই ছেলে, তাঁর বাবা এবং পিসি এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ মেয়েটির পরিবারের। ছেলেটির বাবাই এই সম্পর্ক নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি তুলেছিল।
নরবলি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে কি না, তা নিয়ে পুলিশ এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি নয়। ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত হত্যা কীভাবে করা হচ্ছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই যাচ্ছে।