প্রতীকী ছবিন'বছর আগে নাবালিকাকে 'ফ্লাইং কিস' ছোড়ায় জেল, জরিমানা হল যুবকের। তিন বছরের জেল, ৩ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত। ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে। সেসময় ১৯ বছর বয়সী যুবক ১৬ বছর বয়সী প্রতিবেশী কিশোরীর পিছু নেন। একটি বিবাহের অনুষ্ঠানে কিশোরীকে 'ফ্লাইং কিস' ছুড়ে দেন বলে অভিযোগ। ৯ বছর পর মুম্বইয়ের এক বিশেষ আদালত ওই যুবককে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে। এই যুবক বর্তমানে বিবাহিত। তাঁর তিন মাসের একটি সন্তানও রয়েছে।
সেসময় প্রতিবেশী ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী তার মাকে জানায়, অভিযুক্ত ৩১ জানুয়ারি, ২০১৭ সালে তাঁদের পাড়ায় একটি 'হলদি কুমকুম' অনুষ্ঠানের সময় 'ফ্লাইং কিস' ছোড়েন। মেয়েটির মা যখন মেয়েটির সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেন। তখন তিনি তাদের জানান, কয়েকদিন আগে যখন সে টিউশনে যাচ্ছিল, তখন অভিযুক্ত পিছন থেকে এসে তাঁর হাত ধরে তাঁর দিকে টেনে নিয়ে যায়। সে সময় নির্যাতিতা ভয় পেয়ে যায়, বাবা-মাকে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে পরিবারটি এসব ঘটনা জানতে পারে। এরপর মেয়ের বাবা অভিযুক্ত এবং তার মাকে তাঁর বাড়িতে ডেকে তার মেয়ের কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযুক্ত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। এরপর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।
আদালতে, অভিযুক্তের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী সন্তোষ পাগারে, ভুক্তভোগীকে জেরা করেন। অভিযুক্ত নাচের সময় 'ফ্লাইং কিস' দেওয়ার অঙ্গভঙ্গি করেছিলেন বলে জানায়। তবে, আদালত উল্লেখ করেছে ওই মেয়েটি তা প্রত্যাখ্যান করে। অভিযুক্ত পরোক্ষভাবে 'ফ্লাইং কিস'-র কথা স্বীকার করেন। 'ফ্লাইং কিস' দেওয়ার কাজটি যৌন অঙ্গভঙ্গি, যার ফলে ভুক্তভোগীর প্রতি যৌন হয়রানির মামলা হয়।
অভিযুক্তরা অভিযোগ করেছেন, ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী, যিনি তাঁর মাকে ফ্লাইং কিসের ঘটনাটি বলেছিলেন, তাঁর আত্মীয় এবং তাঁদের মধ্যে শত্রুতা ছিল। তবে, বিচারক বলেছেন, ভুক্তভোগী বা তাঁর বাবা-মায়ের পক্ষে অভিযুক্তকে মিথ্যাভাবে মামলায় জড়িত করার কোনও কারণ নেই কারণ অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনও শত্রুতা ছিল না। কেন তারা তাদের প্রতিবেশীর জন্য তাদের মেয়ের সুনাম ঝুঁকির মুখে ফেলবে?
নয় বছর আগে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর পিছু নেওয়া এবং তাকে 'ফ্লাইং কিস' দেওয়ার অভিযোগে মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত ওই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেছে। যে ব্যক্তি এখন বিবাহিত এবং তার নিজের তিন মাস বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০০০ টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।