
নদিয়ায় টোটো চালকের বাড়িতে উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা ও মাদক- নিজস্ব চিত্রটোটো চালকের ঘরের মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার হল লক্ষ লক্ষ টাকা। এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে, মাটির নীচে লুকনো ছিল ৩২ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ। মিলল ৫০০ গ্রাম হেরোইন সহ ঠাসা মাদক। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কালীগঞ্জে। সাদ্দাম হোসেন শেখ নামে ওই টোটোচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, মাদক পাচারের বড় চক্রের সঙ্গে যুক্ত সাদ্দাম।
টোটোচালকের বাড়িতে মাটির নীচে লক্ষ লক্ষ টাকা ও মাদক
কালীগঞ্জের বড়চাঁদঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের খড়ের মাঠ এলাকায় নিরীহ টোটোচালক হিসেবেই এলাকায় পরিচিত ছিল সাদ্দাম হোসেন শেখ। কিন্তু টোটো চালানোর আড়ালে যে বিরাট মাদকচক্রও চালাত সাদ্দাম, ঘূণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি গ্রামবাসীরা। পুলিশের কাছে গোপন খবর ছিল। নজর রাখছিল সাদ্দামের গতিবিধির উপরে। আজ অর্থাত্ মঙ্গলবার সাদ্দামের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তারপর যা ঘটল, তাতে অবাক প্রতিবেশীরা। সাদ্দামের বাড়ির মেঝে খুঁড়তেই বেরিয়ে এল লক্ষ লক্ষ টাকা। তার সঙ্গে প্রচুর মাদক। সাদ্দামের সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয় তার ছেলে আখতার শেখকেও। বাবা ও ছেলে মিলেই মাদক পাচার চালাত বলে জানা যাচ্ছে।

হেরোইন, চায়না কর্ড, সোডিয়াম কার্বোনেট অ্যানহাইড্রাস ঠাসা
পুলিশ সূত্রের খবর, তাঁর ঘরের মেঝে খুঁড়ে ৩২ লক্ষ টাকার বেশি উদ্ধার হয়েছে। শুধু টাকা নয়, ৫০০ গ্রাম হেরোইন-সহ আরও অন্য মাদক উদ্ধার হয়েছে। ধৃত ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক পাচার চক্রে যুক্ত বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এ বিষয়ে কৃষ্ণনগরের পুলিশ সুপার অতুল ভি জানান, কালীগঞ্জ থানার মিরাবাজার আর.ও.পি একটি বিশেষ অভিযানে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ৩২ লক্ষ ১৪ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ৫৪৪ গ্রাম হেরোইন, ১ কেজি ৫৮৪ গ্রাম কালো রঙের পাউডার('চায়না কর্ড'), ২৯৭ গ্রাম সাদা রঙের পাউডার (গোড়ানি' নামে পরিচিত), ৪ কেজি ৮৩৩ গ্রাম সোডিয়াম কার্বোনেট অ্যানহাইড্রাস।
নদিয়া জেলাটির একটি বড় অংশ বাংলাদেশ সীমান্ত
দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় টোটো চালাত সাদ্দাম। পুলিশের কাছে গোপন খবর ছিল, টোটো চালানোটা স্রেফ লোক দেখানো। তার আসল ব্যবসা হল মাদকপাচার। কিন্তু পুলিশ কিছু বুঝতে দেয়নি। বরং কয়েকমাস ধরে তার গতিবিধির উপরে নজর রাখছিল। পুলিশ যে তাকে নজর রাখছে, তা বুঝতেই পারেনি সাদ্দাম। এমনিতেই নদিয়া জেলাটির একটি বড় অংশ বাংলাদেশ সীমান্ত। তাই পুলিশের সন্দেহ, সাদ্দাম, আখতারই শুধু নয়, এই মাদকপাচারে আন্তর্জাতিক চক্রও জড়িত থাকতে পারে। প্রতিবেশী দেশের মাদকপাচার চক্রের জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।