কেতন হত্যা মামলা।-প্রতীকী ছবিপুনের লোহগড় দুর্গে কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট উঠে আসছে। ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর অভিযুক্ত সিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ডামি ট্রায়াল বা পুনর্নির্মাণ (রিকনস্ট্রাকশন) চালায় পুনে পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। কেতনের উচ্চতা ও ওজনের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি একটি ম্যানিকুইন ব্যবহার করে খতিয়ে দেখা হয়, পাহাড়ের চূড়া থেকে ধাক্কা দিলে দেহ কত দূরে গিয়ে পড়তে পারে এবং ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া দেহের অবস্থানের সঙ্গে তার কতটা মিল রয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল কেতনের মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত, নাকি পরিকল্পিতভাবে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা। ফরেনসিক দল পাহাড়ের ঢাল, ধাক্কার সম্ভাব্য শক্তি এবং দেহ পড়ার গতিপথ বিশ্লেষণ করে। তদন্তের স্বার্থে সংবাদমাধ্যমকে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুনর্নির্মাণের স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। তবে কে ধাক্কা দিয়েছিল বা ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি তদন্তকারী সংস্থা। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, ডিজিটাল প্রমাণ এবং ফরেনসিক রিপোর্ট একসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী সূত্রের আরও দাবি, অভিযুক্ত সিয়া ও চেতন ঘটনাটির আগে একাধিকবার লোহগড় দুর্গে গিয়েছিলেন এবং এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। পাশাপাশি তাঁদের মোবাইল ফোন, অনলাইন কার্যকলাপ ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে আদালতের নির্দেশে সিয়া ও চেতনকে আরও কয়েক দিনের পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল প্রমাণের সমন্বয়ই এই বহুল আলোচিত মামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং আদালতের রায়ের আগ পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত নয়।