
ধৃতদের দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।দুই ভাই মিলে এক রাতেই পরপর ১০টি বাড়িতে চুরি। অফিস-সহ একাধিক ফাঁকা বাড়ি থেকে টাকা, সোনার গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগণার ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা এলাকায়। ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
একের পর এক ফাঁকা বাড়ি টার্গেট
পুলিশ সূত্রে খবর, ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লকের আশুতি প্লাজা এবং সংলগ্ন সরশুনা এলাকায় এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, অভিযুক্তরা ফাঁকা বাড়ির সন্ধান রেখেছিল। তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। এর পর সেখান থেকে নগদ টাকা, সোনার গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে পালিয়ে যায়। একই রাতে একাধিক বাড়িতে এই ধরনের চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি আশুতি কালীতলা থানায় একটি মামলা রুজু হয়। তদন্তে নামে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। কালীতলা থানার ওসি রূপম ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। সেই ফুটেজের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
পরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সরিষা এলাকা থেকে একই পরিবারের দুই ভাই; কচি মিস্ত্রি এবং ছোট্টু মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও এক ভাই জড়িত।বর্তমানে পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি সোনার চেন-সহ মোট ১১টি সোনার ও রুপোর গয়না উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর ধৃতদের আলিপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁদের দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ মনে করছে, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
এলাকায় আতঙ্ক, কী বলছেন বাসিন্দারা?
এক রাতে পরপর এতগুলি বাড়িতে চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকার স্থানীয়রা। অনেকেই জানিয়েছেন, ফাঁকা বাড়িগুলিকেই টার্গেট করেছিল দুষ্কৃতীরা। এর ফলে বাড়ি ফাঁকা রেখে বাইরে যাওয়ার প্ল্যান আপাতত শিকেয় উঠেছে এলাকাবাসীর।
পুলিশকর্মীরা যা টিপস দিচ্ছেন
পুলিশ সবরকমভাবে চেষ্টা করে। তবে বাড়ি মালিকরা নিজেরাই উদাসীন হলে চোরেদের পক্ষে টার্গেট করা সহজ হয়ে যায়। তাই এই ধরনের ঘটনার পরে নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। তাঁদের মতে;
১. বাড়ি ফাঁকা রেখে বাইরে গেলে সদর, উঠোন ও ছাদের দরজায় ভাল তালা, লক ব্যবহার করুন।২. বাড়িতে CCTV ক্যামেরা বসান। এখন অনলাইনেও সস্তায় এমন ক্যামেরা পাওয়া যায়।
৩. বাড়িতে না থাকলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই সিকিউরিটি গার্ড রাখার ব্যবস্থা করুন। প্রতিবেশীদের জানিয়ে যান।
৪. রাতে বাড়ির বাইরেটা অন্ধকার রাখবেন না। অন্তত একটি আলো জ্বেলে রাখুন। আজকাল সোলার লাইটও লাগান অনেকে। তাতে বিদ্যুতের বিল নিয়েও চিন্তা থাকে না।
৫. বাড়িতে যে বেশ কিছুদিন থাকবেন না, তা চাউর করবেন না।
চুরির ঘটনা ঘটলে কী করবেন?
চুরির ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই জরুরি;
১. সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী থানায় খবর দিন
২. চুরির ঘরে প্রবেশ করবেন না। কিছু স্পর্শও করবেন না। প্রমাণ অক্ষত রাখুন
৩. CCTV ফুটেজ থাকলে তা পুলিশকে জানান
৪. চুরি যাওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরি করে পুলিশকে দিন
৫. সন্দেহজনক কোনও ব্যক্তি বা ঘটনার তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানান