তৃণমূল নেতা খোকন সর্দার।অভিযোগের পালা যেন কিছুতেই থামছে না তৃণমূল নেতা খোকন সর্দারের বিরুদ্ধে। এক পশুপ্রেমী মহিলাকে কু-প্রস্তাব দেওয়া এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগে গত সপ্তাহেই গড়িয়াহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল গরিয়াহাট এলাকার তৃণমূল নেতা খোকন সর্দারের বিরুদ্ধে। ওই পশুপ্রেমী মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। গত রবিবারই এই খবর প্রকাশিত হয়েছিল ইন্ডিয়া টুডে এবং আজ তক বাংলায়। এরপর সপ্তাহ গড়াতে না গড়াতেই ফের কাঠগড়ায় সেই একই তৃণমূল নেতা। এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিগত ১১ বছর ধরে একটি গোডাউন দখল করে রাখার অভিযোগ আনলেন ওই এলাকারই বাসিন্দা মানিক দে সরকার। সম্পত্তি দখলের পাশাপাশি তার গোডাউন থেকে একাধিক মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগও রয়েছে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।
গড়িয়াহাট থানা এলাকার কাকুলিয়া রোডের বাসিন্দা পেশায় ইলেকট্রনিক মেকানিক মানিক দে সরকার জানিয়েছেন, তার বাড়ির অদূরেই প্রায় বহু বছর আগে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে গোডাউন বানিয়ে ছিলেন তিনি। এরপর কোন এক রাতে তার গোডাউনের শাটার এবং গ্রিল ভেঙে ভেতরে ঢুকে একাধিক মূল্যবান সামগ্রী লুঠ করা হয় বলে অভিযোগ। মানিক বাবুর দাবি, পরদিন সকালে গোডাউনের শাটার এবং গ্রিল ভাঙা দেখে বাড়ির মালকিনের সঙ্গে দেখা করলে তিনি আগের রাতে খোকন সর্দার এর আসার কথা জানান। এরপরই স্থানীয় তৃণমূল নেতা খোকন সর্দারের বিরুদ্ধে লেক থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মানিক দে সরকার। খোকনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর মামলার জল গড়ায় আদালতেও। কিন্তু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন হলেও বারংবার অভিযোগকারী ব্যক্তি হুমকি এবং আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা একাধিকবার তাকে আক্রমণের চেষ্টাও করেন বলে দাবি মানিকবাবুর।
গোটা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও, শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকার সুবাদে তার বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। এমনকি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েও সমাধান মেলেনি বলে দাবি অভিযোগকারী ব্যক্তির। এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে অবিলম্বে বিচার চান মানিক দে সরকার। তার দাবি, "পুলিশ প্রশাসন অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে আমার গোডাউন ফিরিয়ে দিক এবং অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক। কিন্তু আমি বিচার না পেলে প্রয়োজনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হব"। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা খোকন সরদার এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, তার বিরুদ্ধে পশুপ্রেমী কে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই নিজের ফোন সুইচ অফ করে দেন অভিযুক্ত।