উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে বড়সড় অস্ত্র পাচারচক্রের হদিশ পেল সিআইডি।West Bengal CID: একজন মহিলা সাধারণ। রাস্তায় দেখলে আর পাঁচজন মহিলার সঙ্গে কোনও পার্থক্যই করা যাবে না। কিন্তু তাঁরই ব্যাগ থেকে যা বের হল, তাতে চক্ষু চড়কগাছ সিআইডির দুঁদে গোয়েন্দাদেরও। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে বড়সড় অস্ত্র পাচারচক্রের হদিশ পেল সিআইডি। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে নজরদারি চালিয়ে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতের ব্যাগ থেকে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬টি ম্যাগাজিন, ২০০ রাউন্ড কার্তুজ এবং নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সিআইডির অনুমান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে পাচার করা হয়েছিল। এই অস্ত্র কার হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এর নেপথ্যে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে গোপন সূত্রে খবর পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তার ভিত্তিতেই ওই মহিলার উপর বেশ কিছুক্ষণ নজরদারি চালানো হচ্ছিল। তদন্তকারীরা তাঁর গতিবিধি অনুসরণ করতে করতে নৈহাটি রোড হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের ৮ নম্বর এলাকায় পৌঁছন। সেখানেই তাঁকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকেই বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং নগদ টাকা উদ্ধার হয়।
উদ্ধারের পরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে সিআইডি। নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নির্দিষ্ট অংশে প্রবেশে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ঘটনাস্থলে দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলেও তদন্তকারী সূত্রের খবর।
ধৃত মহিলার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডের ভিত্তিতে তাঁর পরিচয় জানা গিয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, ধৃতের নাম পূজা বিশ্বাস। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিবেদিতা রোডের বাসিন্দা। তিনি এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিয়ে কোথায় যাচ্ছিলেন, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি বিহার থেকে এ রাজ্যে আনা হয়েছিল। তবে সেই অস্ত্রের চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল, কার হাতে তা পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এই পাচারচক্রে আর কারা জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সিআইডির একাধিক দল ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের নথি এবং আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
তদন্তকারীদের অনুমান, ধৃত মহিলা কেবল 'ক্যারিয়ার', নাকি তিনি নিজেই এই পাচারচক্রের সক্রিয় সদস্য; সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অস্ত্র পাচারের একাধিক ঘটনার তদন্তে এর আগেও আন্তঃরাজ্য চক্রের নাম উঠে এসেছে। এই ঘটনাতেও সেই ধরনের কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগেও এই মহিলা গ্রেফতার হয়েছিলেন
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩-এর নভেম্বর মাসেও একই অভিযোগে পূজা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সময়ও তাঁর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। ফলে একই ব্যক্তির নাম ফের অস্ত্র পাচারের মামলায় উঠে আসায় তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। পুরনো মামলার নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, সীমান্তবর্তী ও সংলগ্ন রাজ্যগুলি থেকে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অস্ত্র পাচার হয়। সেই প্রবণতা রুখতে সম্প্রতি নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের মাধ্যমে এই অস্ত্র পাচারচক্র সম্পর্কে আরও সূত্র পাওয়া যেতে পারে।