সূত্রের খবর, সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপরও নজর রাখছিলেন তিনি।Hamid Mondal: পেশায় দর্জি। কখনও পোশাকে বারকোড লাগানো। কখনও ইউনিফর্ম সেলাই। আর পাঁচজন সাধারণ খেটে খাওয়া যুবকের মতোই। কিন্তু সেই যুবকই কি পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের এজেন্ট(Jaish-e-Mohammed link)? পূর্ব বর্ধমান থেকে ধৃত হামিদ মণ্ডলকে(Burdwan STF arrest) ঘিরে ক্রমেই ঘনাচ্ছে রহস্য। STF-এর তদন্তকারীরা গত কয়েক মাস ধরে তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন। শুক্রবার সকালে বর্ধমানের এক আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সূত্রের খবর, সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপরও নজর রাখছিলেন তিনি।
দর্জির মুখোশ, আড়ালে...
STF সূত্রে খবর, হামিদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কুসুমগ্রামে। যদিও দীর্ঘদিন তিনি হাওড়ার পিলখানা এলাকায় থাকতেন। সেখানে একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করতেন।
সম্প্রতি পিলখানার কিছু এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। তারপর তিনি বর্ধমানে চলে যান। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে রেনেসাঁ কমপ্লেক্সের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে এসটিএফ।
একটানা নজর রাখছিলেন গোয়েন্দারা
হামিদের উপর গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরেই নজরদারি চলছিল। বর্ধমানে আসার পর থেকেই তাঁর গতিবিধি গোপনে পর্যবেক্ষণ করছিল পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। ঠিক কী উদ্দেশ্যে তিনি ঘুরছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এসটিএফ।
সোশ্যাল নেটওয়ার্কের জাল
হামিদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ফোনে বেশ কিছু সন্দেহজনক তথ্য ও নথি মিলেছে। এসটিএফ সূত্রের দাবি, পাকিস্তানে থাকা কয়েক জনের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগেরও ইঙ্গিত মিলেছে। সেই যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল, কারা ছিলেন ওই ব্যক্তিরা এবং কোনও নাশকতার ছক ছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। হামিদ গত কয়েক মাস ধরে একটি ইনস্টাগ্রাম পেজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, সেই পেজটি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-র ঘনিষ্ঠ এবং পাকিস্তান দখলকৃত কাশ্মীরে সক্রিয় জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত সাজ্জাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে। এই সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্র ধরেই তাঁর গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর উপর নজর?
এসটিএফ আরও জানতে পেরেছে, বর্ধমানে আসার আগে হামিদ কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটেও ভাড়া থাকতেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেই সময় তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের গতিবিধির উপর নজর রাখার কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও অফিসিয়ালি কিছু কনফার্ম করা হয়নি। তদন্ত চলছে। সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হামিদের প্রকৃত পরিচয় নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। তিনি নিজের আসল নামেই বিভিন্ন জায়গায় থাকতেন, নাকি ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন, তা যাচাই করা হচ্ছে। নিউটাউন ও বর্ধমানে যাঁরা তাঁকে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছিলেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
শুক্রবার ধৃতকে পূর্ব বর্ধমানের আদালতে পেশ করা হবে। এরপর তাঁকে কলকাতায় এনে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এসটিএফের মতে, ডিজিটাল তথ্য, মোবাইলের ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং জেরার মাধ্যমে হামিদের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।