গুজরাতের মরবিতে কেবল ব্রিজ ভেঙে (Morbi Bridge Collapse) যাওয়ার কারণে রবিবার সন্ধ্যায় একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ৭৫ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি। মাত্র ৫ দিন আগে খুলে দেওয়া হয় এই সেতু। ৭ মাস ধরে এখানে মেরামতের কাজ চলছিল। রবিবার ছুটির দিন হওয়ার কারণে আজ ভিড় বেশি হয়েছিল। সেতুর উপরে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ লোক এখানে জড়ো হয়েছিলেন।
সেতুটির দৈর্ঘ্য ২০০ মিটারের বেশি। প্রস্থ ছিল প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট। দুর্ঘটনার পর কেবল ব্রিজের অনেক ছবি সামনে এসেছে, যাতে দেখা যায় সেতুটি মাঝখান থেকে ভেঙে নদীতে তলিয়ে গেছে। সেতু ভেঙে পড়ার পর মাঝপথে আটকে পড়েছেন বহু মানুষ, যারা ভাঙা সেতুই ধরে কোনওমতে উঠে আসার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে NDRF টিম। রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ঘটনাস্থলে পৌঁছবেন। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের (Gujarat CM Bhupendrabhai Patel) কাছে ফোন করে ঘটনার খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। কেবল ব্রিজটি বেশ পুরনো বলে জানা গিয়েছে। মাত্র ৫ দিন আগে সংস্কারের পর এটি খুলে দেওয়া হয়।
সংস্কারের পরও এত বড় দুর্ঘটনার পর এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। গত ৭ মাস ধরে এই সেতু মেরামতের কাজ চলছিল। সংস্কারের কাজ একটি ট্রাস্ট দ্বারা করা হয়। এতদিন পর সেতুটি চালু হওয়ায় রবিবার পরিবার-পরিজন নিয়ে ছবি তুলতে ও সেলফি তুলতে গিয়েছিলেন বিপুল সংখ্যক মানুষ।
দুর্ঘটনার পর মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সেতু খুলে দেওয়ার পাঁচদিনের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণে মেরামতের কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সেতুটি চালুর আগে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়া হয়নি বলেও জানা গিয়েছে। লোকজন বলছেন, কাজ শেষ না হলেও কেন খোলা হল সেতু।
ঘটনার সময় দেড় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে। কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ সেতুতে পৌঁছলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে অন্ধকারের কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর সেখানে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যারা সাঁতার কাটতে জানতেন, তাঁরাই প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। বাকিদের সলিল সমাধি হয়েছে।