
ভারতীয় সেনার পদাতিক বাহিনীর হাতে যুদ্ধের ময়দানে আরও শক্তি তুলে দিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সীমান্তে শত্রুকে জবাব দিতে এবার দেশীয় অস্ত্রেই ভরসা রাখছে সরকার।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি 450টি কার্ল গুস্তাফ এমকে ফোর রকেট লঞ্চার কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এই লঞ্চারগুলি সেনার হাতে এলে পদাতিক বাহিনীর ফায়ারপাওয়ার অনেকটাই বেড়ে যাবে।

এই লঞ্চারগুলি দিয়ে শত্রুর বাঙ্কার, সাঁজোয়া গাড়ি এবং হালকা ট্যাঙ্ক সহজেই ধ্বংস করা সম্ভব। পাহাড়ি এলাকা থেকে সমতল, সব জায়গাতেই এই অস্ত্র সমান কার্যকর বলে সেনা সূত্রের খবর।

নতুন এমকে ফোর সংস্করণটি আগের মডেলগুলির চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক। এর নিশানা লাগানোর ক্ষমতা অনেক নিখুঁত এবং রাতে যুদ্ধ করার জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

এই রকেট লঞ্চারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর ওজন। এর ওজন মাত্র 7 কেজির কম, ফলে এক জন জওয়ান একাই কাঁধে নিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারবেন এবং দ্রুত অবস্থান বদল করতে পারবেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, এই 450টি লঞ্চার কেনার জন্য মোট খরচ হবে প্রায় 2800 কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের চুক্তি দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এই সমস্ত অস্ত্র তৈরি করবে দেশীয় সংস্থা। এর ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশের উপর নির্ভরতা কমবে এবং মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্প আরও গতি পাবে।

সরকারের আত্মনির্ভর ভারত লক্ষ্যের সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সরাসরি যুক্ত। দেশের মাটিতে তৈরি অস্ত্র দিয়েই দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সেনা সূত্রের খবর, এই লঞ্চারগুলি খুব দ্রুত সীমান্তে মোতায়েন করা হবে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও চিন সীমান্তে যেখানে হঠাৎ হামলার আশঙ্কা থাকে, সেখানে এই অস্ত্র বড় ভূমিকা নেবে।

কার্ল গুস্তাফ এমকে ফোর দিয়ে দিনে ও রাতে দুই সময়েই সমান দক্ষতায় হামলা চালানো সম্ভব। এর সঙ্গে থার্মাল সাইট ও অন্যান্য আধুনিক যন্ত্র লাগানো যায়।

এই লঞ্চার থেকে বিভিন্ন ধরনের গোলা ছোড়া যায়। শত্রুর বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দেওয়া, ট্যাঙ্ক থামিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে লুকিয়ে থাকা জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা, সব কাজেই এটি ব্যবহার করা যাবে।

পদাতিক বাহিনীর কাছে এতদিন ভারী অস্ত্র বহনের সমস্যা ছিল। হালকা ওজনের এই লঞ্চার সেই সমস্যা মিটিয়ে দেবে এবং একজন জওয়ানের ব্যক্তিগত যুদ্ধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেনার আধুনিকীকরণের পথে এই সিদ্ধান্তকে বড় সাফল্য বলা যায়। এই অস্ত্র হাতে এলে শত্রুকে যোগ্য জবাব দেওয়া আরও সহজ হবে।

এই চুক্তির মাধ্যমে স্পষ্ট যে সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় কোনও আপস করতে চায় না। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র দিয়েই আগামী দিনে ভারতীয় সেনা আরও শক্তিশালী হবে।
