
রপ্তানিতে বড় ধাক্কা
ভারতের তরমুজের অন্যতম বড় বাজার হলো ইরান এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলি। প্রতি বছর এই সময় টন টন তরমুজ জলপথে পাড়ি দেয় গাল্ফ দেশগুলিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবে থমকে গিয়েছে রপ্তানি প্রক্রিয়া। ফলে যে পরিমাণ ফসল বিদেশের বাজারে যাওয়ার কথা ছিল, তা এখন দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে উপচে পড়ছে।

দাম কেন পড়ল
চাহিদার তুলনায় জোগান কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় হু হু করে নামছে দাম। পাইকারি বাজারে যে তরমুজের কেজি প্রতি দর গত বছর এই সময়ে ছিল ২৫-৩০ টাকা, তা এখন ১০-১২ টাকায় নেমে এসেছে। অনেক জায়গায় চাষিরা উৎপাদন খরচটুকুও তুলতে পারছেন না। মুম্বই বা চেন্নাইয়ের মতো বড় বন্দর সংলগ্ন মান্ডিগুলোতে এখন শুধুই তরমুজের স্তূপ, অথচ ক্রেতার অভাব প্রকট।

ইরান যুদ্ধের ছায়া
আন্তর্জাতিক মহলের মতে, ইরানের ওপর আরোপিত নানা বিধিনিষেধ এবং যুদ্ধের আবহে বাণিজ্যিক করিডোরগুলি কার্যত স্তব্ধ। ভারতের তরমুজ প্রধানত দুবাই হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়। কিন্তু লোহিত সাগরে অস্থিরতা ও যুদ্ধের আশঙ্কায় জাহাজ ভাড়া যেমন বেড়েছে, তেমনই বিমা খরচও আকাশছোঁয়া। এই বাড়তি খরচের বোঝা বইতে না পেরে বহু আমদানিকারক পিছু হটেছেন।

পাতে সস্তা ফল
চাষিদের মাথায় হাত পড়লেও শহর ও মফস্বলের মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে অবশ্য এই চিত্রটি উল্টো। চৈত্র আসার আগেই সস্তায় মিলছে পছন্দের ফল। খুচরো বাজারেও তরমুজের দাম সাধারণের নাগালে থাকায় দেদার বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরো বিক্রেতারা বলছেন, দাম কম হলেও ফলের গুণমান বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে, কারণ মজুত করা তরমুজ দ্রুত পচে যাওয়ার ভয় থাকছে।

চাষিদের হাহাকার
কেরল, কর্নাটক এবং মহারাষ্ট্রের তরমুজ চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় তাঁরা এখন স্থানীয় ফড়েদের কাছে জলের দরে ফসল বেচতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক চাষি আক্ষেপ করে জানাচ্ছেন, সারের দাম ও শ্রমিকের মজুরি যে হারে বেড়েছে, তাতে এই দামে ফসল বেচলে ভিটেমাটি ছা়ড়া হতে হবে। যুদ্ধের আঁচ এভাবে তাঁদের হেঁশেলে ঢুকে পড়বে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা।

আগামীর আশঙ্কা
যদি খুব দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে না আসে, তবে এই লোকসানের বহর আরও বাড়বে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি অবিলম্বে বিকল্প কোনো সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা রপ্তানি ভর্তুকির ব্যবস্থা না করে, তবে আগামী দিনে তরমুজ চাষে আগ্রহ হারাবেন কৃষকরা। যুদ্ধের কামড় যে কেবল বারুদ আর রক্তে সীমাবদ্ধ থাকে না, তার প্রমাণ দিচ্ছে ভারতের বাজারে পড়ে যাওয়া তরমুজের দর।