
বুধবার দুপুর ১২টায়, শুভক্ষণ নির্ধারণ করে রত্ন ভাণ্ডারের সামগ্রী তার পরিমাণ নিয়ে গোণাগুন্তি শুরু হয়েছে। কিন্তু জানেন কি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে রত্ন ভাণ্ডারের ইতিহাস কী?

পুরীর মন্দিরের রত্ন ভাণ্ডারটি নির্মাণের সময় থেকেই রয়েছে। এর সময়কাল আনুমানিক দ্বাদশ শতাব্দী।

বলা হয় রত্ন ভাণ্ডারটি রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের রাজকোষ। যা তিনি ভগবান নীলমাধবকে দান করেছিলেন। দেবী লক্ষ্মী তাঁকে আশীর্বাদ করে বলেছিলেন, এই রত্ন ভাণ্ডার কখনও খালি হবে না।

রত্ন ভাণ্ডারে ২টি কক্ষ রয়েছে। ভিতর ভাণ্ডার এবং বাহারি ভাণ্ডার। রাজা অনঙ্গভূম দেব ভগবান জগন্নাথের অলঙ্কার তৈরির জন্য প্রচুর পরিমাণে সোনা দান করেছিলেন।

বাহ্যিক কোষাগারে ভগবান জগন্নাথের সোনার মুকুট এবং ৩টি সোনার হার রয়েছে। যার প্রত্যেকটির ওজন ১২০ তোলা।

ভিতর ভাণ্ডারে রয়েছে ৭৪টি সোনার অলঙ্কার। যার প্রত্যেকটির ওজন ১০০ তোলারও বেশিষ সেখানে সোনা, হীরে, প্রবাল এবং মুক্তোর তৈরি পাত রয়েছে। এছাড়াও ভাণ্ডারে ১৪০টিরও বেশি রুপোর অলঙ্কারও রয়েছে।

রত্ন ভাণ্ডারটি ৪৮ বছর আগে খোলা হয়েছিল ১৯৭৮ সালের ১৩ মে। গণনা চলেছিল ২৩ জুলাই পর্যন্ত। গণনায় ৪৫৪টি স্বর্ণ ধাতুর সামগ্রী (১২৮.৩৮ কেজি), ২৯৩টি রুপোর সামগ্রী (২২১.৫৩ কেজি) এবং বেশ কিছু মূল্যবান পাথর পাওয়া গিয়েছিল।

২০১৮ সালে ওড়িশা বিধানসভায় দেওয়া তথ্য অনুসারে রত্ন ভাণ্ডারে ১২ হাজার ৮৩১ ভরিরও বেশি মূল্যবান পাথর খচিত সোনার গয়না ছিল। এছাড়াও ২২ হাজার ১৫৩ ভরি রুপোর বাসনপত্র এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিল।

২০১৮ সালে আদালতের নির্দেশে ১৬ জনের একটি দল রত্ন ভাণ্ডারে পৌঁছয়। কিন্তু খোলা সম্ভব হয়নি কারণ চাবি হারিয়ে যায়।

জগন্নাথ মন্দির থেকে ২ কিলোমিটার দূরে লোকনাথ মন্দির অবস্থিত। এটি একটি শিব মন্দির, যা রত্ন ভাণ্ডারের রক্ষক। রত্ন ভাণ্ডারে সাপের উপস্থিতি এবং অজানা সুড়ঙ্গ সম্পর্কে অনেক কিছুই সামনে এসেছে। ৪৮ বছর পর রত্ন ভাণ্ডারটি শুধু গুপ্তধনেরই সত্য উন্মোচন করবে না বরং বিশ্বাস ও ইতিহাসের অনেক নতুন ঘটনাও প্রকাশ্যে আসবে।