1 Million Satellites In Space: রাতের আকাশে তারার চেয়ে বেশি দেখা যাবে স্যাটেলাইট, বড় সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের

রাতের আকাশে তারার জায়গায় এবার বেশি দেখা মিলবে স্যাটেলাইট। আকাশে উড়বে ১ লক্ষ স্যাটেলাইট। এর ফলে আকাশ দেখার অভিজ্ঞতা বদলে যাবে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisement
রাতের আকাশে তারার চেয়ে বেশি দেখা যাবে স্যাটেলাইট, বড় সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদেরআকাশে ১ মিলিয়ন স্যাটেলাইট
হাইলাইটস
  • রাতের আকাশে তারার জায়গায় এবার বেশি দেখা মিলবে স্যাটেলাইট
  • আকাশে উড়বে ১ লক্ষ স্যাটেলাইট
  • এর ফলে আকাশ দেখার অভিজ্ঞতা বদলে যাবে

পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরবে ১০ লক্ষ বা এক মিলিয়ন স্যাটেলাইট। এমনই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলেই বিপদ। এমনটা হলে আমরা যে রাতের আকাশ চিনি, তা সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছে একটি নতুন গবেষণা। গবেষকদের মতে, এর প্রভাব শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর জন্য সাধারণ মানুষের আকাশ দেখার অভিজ্ঞতাও বদলে যেতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, এত বিপুল সংখ্যক স্যাটেলাইট কক্ষপথে ঘুরলে রাতের আকাশে খালি চোখেই স্যাটেলাইট দেখা যাবে। সেটা সেই সময় দৃশ্যমান তারার সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে রাতের আকাশ দেখার ক্ষেত্রে মানুষের চিরাচরিত অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে ১৪ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট সক্রিয় রয়েছে। এগুলির বেশিরভাগই লো আর্থ অরবিটে অবস্থান করছে। এই অরবিট পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 

যদিও গত কয়েক বছরে মেগা-কনস্টেলেশন প্রকল্পের কারণে আকাশে স্যাটেলাইটের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। মেগা-কনস্টেলেশন হল এমন বিশাল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক, যা বিশ্বজুড়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মতো পরিষেবা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়।

স্যাটেলাইট কি তারার সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যাবে?
একটা সময় এই ধারণাকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করা হতো। তবে নতুন গবেষণায় ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে একটি সিমুলেশন করা হয়েছে। সেখানে কল্পনা করা হয়েছে, যদি কক্ষপথে ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং মিরর মহাকাশযান পাঠানোর মতো পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে রাতের আকাশ কেমন দেখাবে।

গবেষকদের অনুমান, কক্ষপথে যদি প্রায় ১০ লক্ষ স্যাটেলাইট থাকে, তাহলে সূর্যাস্তের পর এবং সূর্যোদয়ের আগে যে কোনও সময়ে কয়েক হাজার স্যাটেলাইট সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে। সেগুলি খালি চোখেই দেখা যেতে পারে।

এমনকী বিশ্বের বহু জায়গায় মানুষ আকাশে তারার চেয়ে বেশি স্যাটেলাইট দেখতে পারেন। গবেষকদের দাবি, এর প্রভাব শুধু পেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ওপরই পড়বে না। বরং সাধারণ মানুষের আকাশ দেখার অভিজ্ঞতাও বদলে যাবে।

Advertisement

এছাড়া উজ্জ্বল স্যাটেলাইটের রেখা মহাকাশের ছবি তোলার কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকী রাতের আকাশের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন সভ্যতার মানুষের যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে তারাভরা আকাশ ছিল, তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষ করে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করার জন্য তৈরি মিরর স্যাটেলাইট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ, এগুলি রাতের আকাশে অতিরিক্ত আলোর উৎস হয়ে উঠবে।

কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি
মুশকিল হল, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই স্যাটেলাইট মেগা-কনস্টেলেশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। এই স্যাটেলাইটগুলি টেলিস্কোপে তোলা ছবিতে উজ্জ্বল দাগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

 

POST A COMMENT
Advertisement