বাসে আগুনশুক্রবার ভোরেই ফের বাসে আগুন লেগে মৃত্যুর মার্মান্তিক খবর। এই দুর্ঘটনাটি আগ্রা-লখনউ এক্সপ্রেসওয়েতে ঘটেছে। কানপুর থেকে গুরুগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়া একটি বেসরকারি ডাবল ডেকার বাসের সঙ্গে একটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। আর তাতেই মুহূর্তের মধ্যে বাসে আগুন ধরে যায়। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২০-এর বেশি বলে খবর মিলেছে। আর এই ঘটনা সামনে আসার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ কী?
যদিও দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে যাত্রীদের মধ্যে। ঊষা নামের এক আহত যাত্রী জানান, বাসটির সামনে একটি ডাম্পার উল্টে পড়েছিল। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে চলা তাঁদের বাসটি সেটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। তিনি আরও বলেন, 'পিছনের কাচ ভেঙে তাঁরা জ্বলন্ত বাস থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।'
অপর এক যাত্রী সত্য বিষ্ণোই জানান, আগুন লাগার চিৎকার শুনে তাঁর ঘুম ভাঙে। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনার আগে বাসটি হঠাৎ জোরে বাঁক নেয়। তারপর গিয়ে ধাক্কা মারে ডিভাইডারে।
এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ফিরোজাবাদের সিটি ম্যাজিস্ট্রেট বিনোদ কুমার। তিনি জানান, এই দুর্ঘটনায় প্রায় ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আর দুর্ঘটনায় বাসের চালক ও কন্ডাক্টরের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই এমার্জেন্সি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে ফিরোজাবাদ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে ১৫ জনকে চিকিৎসার জন্য সৈফাই মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে বলে খবর।
দ্রুত শুরু হয় উদ্ধার কাজ
এলাকাবাসীদের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ, দমকল ও প্রশাসনের রিলিফ দল আসে। তার এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই সময় দমকলের কর্মীরাই আগুন নেভানোর কাজ করে। অন্যদিকে যানজট সামাল দেয় পুলিশ। সূত্রের খবর, দুর্ঘটনার জেরে কিছুটা সময়ের জন্য এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে পড়ে। কিন্তু দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করে দেয় প্রশাসন। তারপরই স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হয়ে যায়।
মাথায় রাখতে হবে, গত কয়েক মাসে একাধিকবার বাস দুর্ঘটনার খবর সামনে এসেছে। এমনকী বাসে আগুন লাগার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। তাতে মৃত্যু হচ্ছে অনেক যাত্রীর। আর তেমনই একটা ঘটনা আবার সামনে এল।