ইরান যুদ্ধে আটকে ভারতীয় নাবিকেরাআমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরান যুদ্ধ চলছে। আর এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে ভয় বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে ২৩,০০০ ভারতীয় নাগরিক পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ কবলিত সমুদ্র এলাকার মধ্যে আটকে রয়েছেন। আর তাঁদেরই বড় বিপদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নাবিকদের সংগঠন।
এই প্রসঙ্গে নাবিকদের সংগঠনের প্রতিনিধি শ্যাম জগন্নাথ মুম্বইয়ের ডিরেক্টর অব শিপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি পরিস্থিতি বর্তমান পরিস্থিতির কথা খুলে জানান। পাশাপাশি ওয়ার জোনে থাকা নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
সরকারি তথ্য জানাচ্ছে, যুদ্ধের পর থেকে অন্তত ৯টি এমন জাহাজে আক্রমণ হয়েছে যেগুলি ভারতীয় বা যেগুলিতে ভারতীয় কর্মীরা রয়েছেন। এর ফলেই মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রে চলাফেরা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় নাবিকরা জাহাজে ওঠার পরই শুরু হয়ে যায় আক্রমণ
৫ মার্চই ভারতীয় নাবিকদের উপর বড় হামলা হয়। সোনাগল নামিবি নামক একটি জাহাজ, যেটাতে বাহামসের পতাকা ছিল এবং যেটায় ভারতীয় নাবিকরা ছিলেন, সেটি ডক করা ছিল ইরাকের খোল আল জুবের বন্দরের কাছে।
আর খবর মিলছে যে একটি বিরাট বিস্ফোরণ হয় সেই জাহাজের ডেকে। কিন্তু জাহাজের কোনও বড় ক্ষতি হয়নি। এমনকী কোনও নাবিকেরও মৃত্যুও হয়নি। তবে এরপরই নাবিকদের মধ্যে ভয় আরও বাড়তে থাকে।
কোথায় কেমন পরিস্থিতি?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রধানত হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর এখন হাই রিস্ক জোনে রয়েছে। বর্তমানে এই সব জায়গায় ভারতের ৩৬টি জাহাজ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার যাতে নেভির মাধ্যমে এই সব জাহাজগুলিকে উদ্ধার করে, সেই দাবি জানান হয়েছে।
কারও মৃত্যু হলে ৪৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ
সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, কোনও নাবিক যদি এই অঞ্চলে প্রাণ হারায়, তাহলে যেন তাঁদের পরিবারকে ৪৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।
এই সংগঠনের দাবি, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অনেক ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। তাঁরা কিছুতেই ফিরতে পারছে না। তাই তাঁদের যেন সরকারে তরফ থেকে সাহায্য করা হয়।
যুদ্ধ থামার নাম নেই
আজ সপ্তম দিনে পড়ল এই যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধ এখনই থামবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, এই পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ দিকে যেতে পারে। তাই ভারত এখন সতর্ক থাকতে চাইছে।