প্রতীকী ছবি পালাবদল ঘটেছে কেরলমেও। আর সরকার গঠন করেই স্কুলে ছাত্রীদের জন্য ঋতুস্রাবকালীন ছুটির সিদ্ধান্ত নিল UDF প্রশাসন। পাশাপাশি যে সমস্ত কর্মস্থলে ৫০ শতাংশের বেশি মহিলা কর্মী কাজ করেন, সেখানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ডে কেয়ার সিস্টেম এবং ক্রেশের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মহিলা এবং শিশুদের জন্য কেরলমের ভিডি সতীশনের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম থেকেই একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে বলেই খবর। কেরলম বিধানসভায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর সরকারের পলিসিগুলি উল্লেখ করার সময়ে বলেন, 'মেনস্ট্রুয়াল ডিগনিটি নামে প্রোজেক্টে ছাত্রীদের জন্য কাজ করাই সরকারের উদ্দেশ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ যে কোনও স্থানে যাতে মহিলা এবং শিশুদের কোনওরকম সমস্যা না হয়, সেটা দেখাই সরকারের কর্তব্য।'
এরপরই তাঁর ঘোষণা, 'আমাদের সরকার পরিকল্পনা করেছে, স্কুল ছাত্রীদের জন্য ৩ দিন ঋতুস্রাবকালীন ছুটি দেওয়া হবে। এই ৩ দিনে তারা যে পঠনপাঠন মিস করবে, তার জন্য উইকএন্ড ক্লাস করতে পারবে ছাত্রীরা। যাতে কোনও ভাবেই তারা পিছিয়ে না পড়ে।'
এছাড়াও ১৯৬১ সালের ম্যাটারনিটি বেনেফিট আইনের আওতায় শিশুদের দেখভাল করার নিয়মকানুনও জারি করবে কেরলম সরকার। যেখানে সমস্ত অফিসে, কর্মস্থলে, IT পার্কে ৫০ শতাংশ মহিলা কর্মচারী থাকলেই ডে কেয়ার এবং ক্রেশের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক হবে।
অনাথ শিশু মুক্ত কেরলম গড়ার অঙ্গীকারও করেছে UDF সরকার। এর জন্য অ্যাডপশন ক্যাম্পেন চালু করা হবে সে রাজ্যে। জুভেনাইল জাস্টিস আইনের আওতায় ফস্টার ফ্যামিলিদের ট্রেনিং দেওয়া হবে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে মহিলা বান্ধব রাজ্য হিসেবে কেরলমকে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন এই সরকার। এর জন্য প্রথমেই প্রতিটি কর্মস্থলে মহিলা এবং পুরুষদের সমকাজে সমবেতনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কেরলমের সমস্ত শহরে পাবলিক রেস্টরুম গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করেছে তারা।
অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলাদের জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেরলমের রাজ্যপাল। তাঁদের ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হবে। স্যানিটারি ন্যাপকিন, জুতো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহজেই যাতে মহিলারা পান, তার বন্দোবস্তও করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।