Air India: ভয় ধরাচ্ছে কেন্দ্রের রিপোর্ট, ৭৫৪টি বিমানের মধ্যে ৩৭৭টিতে ত্রুটি, শীর্ষে এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো

বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ করা সরকারি তথ্য ঘিরে দেশজুড়ে বিমানযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, নিরীক্ষার আওতায় আসা বিমানের প্রায় ৫০ শতাংশেই বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ ও ইন্ডিগো।

Advertisement
ভয় ধরাচ্ছে কেন্দ্রের রিপোর্ট, ৭৫৪টি বিমানের মধ্যে ৩৭৭টিতে ত্রুটি, শীর্ষে এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো
হাইলাইটস
  • বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ করা সরকারি তথ্য ঘিরে দেশজুড়ে বিমানযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
  • কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, নিরীক্ষার আওতায় আসা বিমানের প্রায় ৫০ শতাংশেই বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে।

বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ করা সরকারি তথ্য ঘিরে দেশজুড়ে বিমানযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, নিরীক্ষার আওতায় আসা বিমানের প্রায় ৫০ শতাংশেই বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ ও ইন্ডিগো।

সরকার জানিয়েছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ছ’টি নির্ধারিত বিমান সংস্থার মোট ৭৫৪টি বিমানে পুনরাবৃত্তিমূলক যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে বিশ্লেষণ চালানো হয়েছে। তার মধ্যে ৩৭৭টি বিমানকে ‘রিকারিং স্ন্যাগ’ বা বারবার ত্রুটির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংখ্যার নিরিখে ইন্ডিগোর বিমানই সবচেয়ে বেশি নিরীক্ষিত হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহন লিখিত জবাবে জানান, ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইন্ডিগোর ৪০৫টি বিমান পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৮টিতে পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি ধরা পড়েছে।

তবে অনুপাতের দিক থেকে এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ অনেকটাই এগিয়ে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস মিলিয়ে মোট ২৬৭টি বিমানের মধ্যে ১৯১টিতে বারবার ত্রুটি পাওয়া গেছে, যা প্রায় ৭২ শতাংশ। বিস্তারিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এয়ার ইন্ডিয়ার ১৬৬টি বিমানের মধ্যে ১৩৭টিতে এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ১০১টি বিমানের মধ্যে ৫৪টিতে একই ধরনের ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে।

তালিকায় অন্যান্য বিমান সংস্থার নামও রয়েছে। স্পাইসজেটের ৪৩টি বিমানের মধ্যে ১৬টিতে এবং আকাসা এয়ারের ৩২টি বিমানের মধ্যে ১৪টিতে পুনরাবৃত্তিমূলক যান্ত্রিক সমস্যার কথা জানানো হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংস্থার এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, “অতিরিক্ত সতর্কতার কারণেই আমরা আমাদের পুরো বহরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছি। সেই জন্যই পর্যবেক্ষণের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।”

এয়ার ইন্ডিয়ার এক ঊর্ধ্বতন কর্তা আরও জানান, রিপোর্টে উল্লেখিত বেশিরভাগ ত্রুটি নিম্ন-অগ্রাধিকারভুক্ত। বিমানের যন্ত্রাংশকে জরুরিতার ভিত্তিতে A থেকে D, এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এয়ার ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সমস্যাই D ক্যাটাগরির, যেমন আসন, ট্রে টেবিল বা সিটের পেছনের পর্দা। এগুলি বিমানের উড়ান-নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয় বলেই দাবি সংস্থার।

Advertisement

এদিকে বিমান সংস্থাগুলির নিরীক্ষার পাশাপাশি গত বছর নজরদারি আরও জোরদার করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)। মন্ত্রী জানান, পরিকল্পিত নজরদারির অংশ হিসেবে ৩,৮৯০টি পর্যবেক্ষণ পরিদর্শন, ৫৬টি নিয়ন্ত্রক অডিট, ৮৪টি বিদেশি বিমানের SOFA পরীক্ষা এবং ৪৯২টি র‍্যাম্প পরিদর্শন করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত নজরদারির আওতায় ৮৭৪টি স্পট চেক ও ৫৫০টি রাতের পরিদর্শন চালানো হয়েছে।

জনবল ঘাটতির প্রসঙ্গেও সংসদে তথ্য দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানান, ২০২২ সালে ডিজিসিএ-তে অনুমোদিত কারিগরি পদের সংখ্যা ছিল ৬৩৭। পুনর্গঠনের মাধ্যমে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১,০৬৩ করা হয়েছে, যাতে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা যায়।

 

POST A COMMENT
Advertisement