অভিজিৎ দিপকে তাঁর এক ডাকেই লক্ষ লক্ষ 'আরশোলা' আন্দোলনে সামিল হয়েছিল। দেশের নানা প্রান্তে সমবেত স্বর উঠেছিল, 'ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চাই'। অবশেষে যখন মোদী সরকারে সে দাবি মেনে নিল, তখন কী বললেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে?
ধর্মেন্দ্র প্রধান এক্স হ্যান্ডলে নিজের ইস্তফা দিতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে 'আরশোলারা'। যন্তর মন্তরের ধর্না মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুষ্ঠিবদ্ধ ডানহাতটা শূন্যে ছুড়ে সে কথা ঘোষণা করেন অভিজিৎ দিপকে। মাইক্রোফোনটা হাতে নিয়ে জমায়েত হওয়া প্রচুর সংখ্যক জেন জি-র উদ্দেশে তিনি বলেন, 'লং লিভ স্টুডেন্টস পাওয়ার'।
কটাক্ষের সুরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, 'সুবহ হো গই মামু! ওরা নিজেদের বাদশা ভেবে ফেলেছিল। মাথায় রাখবেন, আরশোলা একবার ঢুকলে আর বেরোয় না। অনেকেই বলেছিলেন, এই সরকারে নাকি পদত্যাগ হয় না। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিয়েছি।' ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
ভিড়ের দিকে তর্জনী উঁচিয়ে অভিজিৎ এদিন বলেন, 'ঝুঁকতি হ্যায় দুনিয়া, ঝুঁকানেওলা চাহিয়ে।' তবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, প্রধান ও মূল দাবি মেনে নিলেও সরকার এখনও তাঁদের আরও ২টো দাবি মানেনি। NEET প্রশ্নফাঁসের পর আত্মঘাতী হওয়া ছাত্রছাত্রীদের ছবি দেখিয়ে, প্রত্যেক নাম পড়ে পড়ে অভিজিৎ বলেন, 'আত্মঘাতী পড়ুয়াদের এক কোটি টাকা করে দিতে হবে। এটা আমাদের দ্বিতীয় দাবি। আর যে সব আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে, সেগুলো তুলে নিতে হবে।'
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী ককরোচ আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত শনিবার দুপুরে ইস্তফা দিয়েছেন দেশের শিক্ষামন্ত্রী। এক্স হ্যান্ডলে সে কথা জানিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, 'দেশের যুবশক্তিই আসল। তাঁরা যাতে কোনও বিভ্রান্তির বেড়াজালে আটকে না পড়ে, সেটাই আমার একমাত্র সংকল্প। গত ১০ দিনের ঘটনাক্রমে আমার মন ভারাক্রান্ত। সবসময় বিশ্বাস করেছি, শক্তিশালী, দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে। দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি, ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশাকে আমি গভীর ভাবে শ্রদ্ধা করি। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা আমাদের সকলের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গীকার। দেশের সেবা করার সুযোগ আমি পেয়েছি, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।'