রাম মন্দিরে চুরি নিয়ে অভিষেকের অভিযোগরাম মন্দিরে চুরি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর অভিযোগ, যে দল ধর্মীয় বিশ্বাসকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় এসেছে সেই তারাই এখন রাম মন্দিরে চুরিতে অভিযুক্ত। প্রসঙ্গত, অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান বাবদ যে অর্থ পাওয়া যেত তার থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি বিরোধী দলগুলি দোষীদের শাস্তির দাবি তুলেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সাফ জানিয়েছেন, দোষীদের ছাড়া হবে না। তবে তারমধ্যেই রাম মন্দিরে চুরিকে হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন অভিষেক।
তিনি এদিন এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'যে দল ধর্মীয় বিভাজন উসকে দিয়ে এবং মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে, সেই দলের বিরুদ্ধেই আজ রাম মন্দিরের জন্য মানুষের দেওয়া অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। যে বিশ্বাস রক্ষার দাবি তারা করে, সেই বিশ্বাসের সঙ্গেই এর চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা আর কী হতে পারে?'
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ বিজেপি পরিচালিত সরকার রাজ্যে পুলিশি শাসন চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বিরোধীদের কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। এমনকী বিধায়কদের দলবদলের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
অভিষেক তাঁর এক্স হ্যাল্ডেলে লেখেন, 'রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা আগে থেকে নোটিশ না দিয়েই নাগরিকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরাচ্ছে, পাথর ছুড়ে মারছে, প্রাণঘাতী আঘাত করছে। প্রতিদিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির দুষ্কৃতীরা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে লাগাতার হিংসা চালাচ্ছে।'
তৃণমূলকে দুর্বল করতেই এমন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। লেখেন, 'রাজনৈতিক দল ভাঙার চেষ্টা চলছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হচ্ছে। দলবদল করতে অস্বীকার করায় বিধায়কদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। ক্ষমতার কাছে মাথা নত করতে অস্বীকার করা নির্বাচিত বিধায়কদের রাতারাতি মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে। যদি বিজেপি সত্যিই মানুষের রায়ে বাংলা জিতে থাকে, তাহলে এত ভয় কেন? এই দমন-পীড়ন কেন? প্রতিবাদের প্রতিটি কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়ার এই মরিয়া চেষ্টা কেন?'
বিরোধীহীন রাজ্য চায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেই অভিযোগ করে তাঁর আরও সংযোজন, 'বিজেপি আপনার ভোট চায় না। তারা এমন একটি রাজ্য ও এমন একটি দেশ চায়, যেখানে কোনও বিরোধী দল থাকবে না, আর নাগরিকদের প্রতিবাদ, ভিন্নমত প্রকাশ, প্রশ্ন তোলা এবং সরকারের সমালোচনা করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে। বাংলাকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রে সর্বোচ্চ শক্তি কোনও রাজনৈতিক দল নয়—সর্বোচ্চ শক্তি জনগণ।'