বিহারে নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়াল রাহুল গান্ধীর এক সমাবেশকে ঘিরে। অভিযোগ, কংগ্রেসের ভোটার অধিকার যাত্রা কর্মসূচির মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করা হয়। এই ঘটনার জেরে দারভাঙ্গা পুলিশ মোহাম্মদ রিজভি ওরফে রাজা নামে এক কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিজভি দারভাঙ্গার সিংহওয়ারার ভাপুরা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নামে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। এই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেস কর্মীরা মোদীর নামে কটূক্তি করছেন, আর পিছনে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের পোস্টার ঝোলানো রয়েছে।
এই কর্মসূচির পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা ও তেজস্বী যাদব মোটরসাইকেলে মুজাফফরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব দাবি করেছে, দলের পক্ষ থেকে কখনই এই ধরনের ভাষা সমর্থন করা হয়নি। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, 'আমরা এই ঘটনার নিন্দা করছি, এটা ব্যক্তিগত কাজ, দলের নয়।'
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ
অন্যদিকে বিজেপি বিষয়টিকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। দলের মুখপাত্র নীরজ কুমার বলেন, 'রাহুল গান্ধী, আপনি নিজে মঞ্চ থেকে এবং আপনার কর্মীদের দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করাচ্ছেন, তা অগ্রহণযোগ্য। এর জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতেই হবে। বিহারের মানুষ আপনাকে কখনো ক্ষমা করবে না।'
তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান, ওবিসি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা মানুষ, তাঁকে অপমান করা মানে গোটা সমাজকেই আঘাত করা।
বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদও সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি এই মন্তব্যকে 'লজ্জাজনক' এবং 'গভীরভাবে অপমানজনক' বলেন। তাঁর বক্তব্যে, এটি শুধু প্রধানমন্ত্রীর জন্য নয়, ভারতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের বিরুদ্ধেও আঘাত।
রাজনৈতিক বারুদে নতুন আগুন
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। কংগ্রেস যদিও নিজেদের দায় এড়াতে চাইছে, বিজেপি বিষয়টিকে সামনে এনে রাহুল গান্ধী ও তাঁর জোটসঙ্গীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরদার করছে। নির্বাচনী আবহে এই ঘটনা নিঃসন্দেহে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।