4 বছরে 33 MP, 78 MLA দল ছেড়েছেন, কোন পার্টিতে বেশি দলবদলু? দেখুন ADR Report

এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি দলবদলের পাশাপাশি দল মিশিয়ে দেওয়া, পদত্যাগ করে অন্য দলের টিকিটে উপনির্বাচনে জয় এবং অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর অন্য দলের টিকিটে উপনির্বাচনে জয়।

Advertisement
4 বছরে 33 MP, 78 MLA দল ছেড়েছেন, কোন পার্টিতে বেশি দলবদলু? দেখুন ADR Reportএডিআর রিপোর্ট।
হাইলাইটস
  • এনপিএফ, বিজেপি এবং এনসিপি তিন দল মিলিয়ে অন্য দল থেকে আসা প্রতিনিধির সংখ্যা ৮১।
  • যা মোট দলবদলের ৭৩ শতাংশ।

নির্বাচনে ভোট দেন সাধারণ মানুষ। বেছে নেন পছন্দের দলের প্রার্থীকে। কিন্তু নির্বাচনে জেতার পর ওই প্রার্থী যদি দলই বদলে ফেলেন? যে দলের টিকিটে ভোটে জিতেছিলেন, সেই দলকে ছেড়ে যদি অন্য দলের সঙ্গে হাত মেলান? তা হলে তো মানুষের ভোট দেওয়ার কোনও অর্থই রইল না। সদ্য বিধানসভা নির্বাচনের পর দলবদল দেখেছে বাংলাও। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (ADR) এবং ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের ১২ জুলাই পর্যন্ত নির্বাচিত হওয়ার পর ১১১ জন সাংসদ ও বিধায়ক দল বদলেছেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন লোকসভার সাংসদ, ৭ জন রাজ্যসভার সাংসদ এবং ৭৮ জন বিধায়ক।

কোন রাজ্যে কত দলবদল?

ADR-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ঘটেছে দলবদল। সবচেয়ে বেশি ঘটনা নাগাল্যান্ডে। সে রাজ্যে ৩২টি। তারপরই পশ্চিমবঙ্গ। ২০টি দলবদলের ঘটনা। তেলঙ্গানায় ৯টি, গোয়া ও পঞ্জাবে ৮টি করে দলবদলের ঘটনা রয়েছে। তবে নাগাল্যান্ডের ৩২টি ঘটনাকে সরাসরি ৩২ জন বিধায়কের একে একে দলবদল হিসেবে দেখলে ভুল হবে।

১১১ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোন দলে?

ADR-এর হিসেব বলছে, নির্বাচিত হওয়ার পর দল পরিবর্তন করা ১১১ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩২ জন NPF-এ যোগ দিয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে BJP ২৯ জন। এনসিপিতে গিয়েছেন তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ। এছাড়া কংগ্রেসে ৯ জন, শিবসেনায় ৮ জন, এনপিপি-তে ৬ জন এবং পিপলস পার্টি অব অরুণাচলে যোগ দিয়েছেন ৪ জন।

বিজেপির ২৯ কারা?

বিজেপিতে যোগ দেওয়া ২৯ জনের মধ্যে ৭ জন রাজ্যসভার সাংসদ এবং ২২ জন বিধায়ক। কোনও লোকসভা সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেননি। রাজ্যসভার ৭ সাংসদ হলেন স্বাতী মালিওয়াল, অশোক মিত্তল, হরভজন সিং, রাঘব চাড্ডা, সন্দীপকুমার পাঠক, বিক্রমজিৎ সিং সাহনি এবং রাজিন্দর গুপ্তা। সকলেই আগে আম আদমি পার্টির টিকিটে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন।

Advertisement

বিধায়কদের মধ্যে গোয়ার ৮ জন কংগ্রেস বিধায়ক যোগ দেন বিজেপিতে। গুজরাতের ৪ কংগ্রেস বিধায়ক, হিমাচলপ্রদেশের ২ কংগ্রেস বিধায়ক এবং মণিপুরের ৫ জন জেডিইউ বিধায়ক যোগ দিয়েছেন মোদী-শাহের দলে। তালিকায় উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক মনোজকুমার পাণ্ডে, মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস বিধায়ক নির্মলা সাপ্রে এবং কর্নাটকের জি জনার্দন রেড্ডির নামও রয়েছে।

বাংলার ২০ সাংসদের দলবদল

২০২৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন ২০জন সাংসদ। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের পর জুন মাসে ওই ২০ জন সাংসদ এনসিপিতে যোগদানের দাবি করেন। ১৪ জুন তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার কথা জানান। সংসদে আলাদাভাবে বসার অনুমতি চান। একই সঙ্গে এনডিএকে সমর্থনের কথাও জানানো হয়। তবে এই সংযুক্তিকরণ এখনও লোকসভার স্পিকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। তৃণমূলের তরফে দলত্যাগীদের সাংসদ পদ বাতিলের দাবি করা হয়েছে। তাঁদের জবাব দেওয়ার জন্য ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন স্পিকার। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তৃণমূলের দলত্যাগী সাংসদরা আরও ৪ সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। ফলে তাঁদের বিষয়টি এখনও বিচারাধীন।

কোন পার্টি থেকে বেশি দলবদলু?

এডিআরের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি জন প্রতিনিধি দল পরিবর্তন করেছেন এনডিপিপি থেকে। সংখ্যাটা ২৫। তারপরে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন এবং কংগ্রেসের ১৯ জন। বিআরএসের ৯ জন, আপ এবং এনসিপির ৭ জন করে, শিবসেনার (উদ্ধব ঠাকরে) ৬ জন, জেডিইউর ৫ জন এবং এনপিপির চার জন এই তালিকায় রয়েছে। এনডিপিপি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস, এই তিন দলের মোট ৬৪ জন সাংসদ-বিধায়ক দল পরিবর্তনে যুক্ত। ১১১ জনের মোট সংখ্যার প্রায় ৫৮ শতাংশই এই তিন দলের।

কেন দল বদলান নেতারা?

এই প্রশ্নের কোনও একটি নির্দিষ্ট উত্তর রিপোর্টে নেই। রিপোর্টটির মূল লক্ষ্য হল, নির্বাচনে জেতার পর কত জন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়ক তাঁদের টিকিট দেওয়া দল থেকে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরা। দলবদলের নির্দিষ্ট কারণ নেই ওই রিপোর্টে। একটা খামতিও আছে রিপোর্টে। নির্বাচন কমিশন বা অন্য কোনও সরকারি সংস্থার কাছে দেশজুড়ে সাংসদ-বিধায়কদের দলবদলের ঘটনার পরিসংখ্যান নেই। 

দলবদল ঠেকাতে কড়া আইন?

এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই দলবদল বিরোধী আইনে পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে এডিআর। তাদের প্রস্তাব, সাংসদ পদ বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হোক রাষ্ট্রপতিকে। আর বিধায়কদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিন রাজ্যপাল। তবে সেটা নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ নিয়ে। এছাড়াও দলবদল সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত। দলবদলুদের সরকারি পদে বসার ক্ষেত্রেও থাকুক বিধিনিষেধ।
 

POST A COMMENT
Advertisement