বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু অজিত পাওয়ারেরমহারাষ্ট্রের বরামতির কাছে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বুধবার বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এনসিপি নেতা তথা মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের। বিমানে তিনি ছাড়াও সওয়ার থাকা আরও ৪ যাত্রীরও মৃত্যু হয়েছে।
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে গোটা দেশেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে কার্যত বেতাজ বাদশা বলা হত অজিত পাওয়ারকে। কাকা শরদ পাওয়ারের হাত ধরে তাঁর রাজনীতির সূচনা হলেও, কাকার ছায়ায় নিজেকে হারিয়ে ফেলেননি তিনি। নিজের রাজনৈতিক বিচক্ষণতার মাধ্যমে তিনি দলকে শক্তিশালী করেছেন। আজ মৃত্যুর দিনেও তিনি আসলে যাচ্ছিলেন ভোটের প্রচারের জন্যই। কাকার হাত ধরে রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ করলেও ২০২২ সালে তিনি শরদ পাওয়ারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপির সঙ্গে সরকার গঠন করেন।
পরিবার থেকে রাজনীতি- অজিত পাওয়ারকে চিনে নিন
১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই আহমেদনগর জেলায় জন্ম হয়েছিল অজিত পাওয়ারের। তিনি শরদ পাওয়ারের বড় ভাই অনন্তরাও পাওয়ারের ছেলে। তাঁর বাবা চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অনন্তরাও মুম্বাইয়ের ভি. শান্তরামের রাজকমল স্টুডিওতে কাজ করতেন। অজিত পাওয়ার সুনেত্রা পাওয়ারের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে, পার্থ পাওয়ার এবং জয় পাওয়ার।
অন্যদিকে, অজিত পাওয়ার বারামতির মহারাষ্ট্র এডুকেশন সোসাইটি হাই স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নেন। তবে, কলেজে পড়ার সময় তার বাবা মারা যান। তখন থেকেই তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন। এরপর কাকা শরদ পাওয়ারের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
শরদ পাওয়ারের হাত ধরেই রাজনীতিতে
আসলে অজিত যখন কলেজে পড়ছিলেন, ততদিনে শরদ পাওয়ার নামী রাজনৈতিক নেতা হয়ে উঠেছিলেন। রাজনীতিতে প্রবেশের পর, তিনি প্রথমে একটি সমবায় ভোটে লড়াই করেছিলেন। এরপর পুনে সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ১৬ বছর এই পদেই ছিলেন তিনি।
১৯৯১ সালে তিনি প্রথমে বরামতি কেন্দ্র থেকেই লোকসভায় নির্বাচিত হন। কিন্তু পরে কাকা শরদ পাওয়ারের জন্য আসনটি ছেড়ে দেন। পরবর্তীকালে তিনি পিভি নরসিংহ রাও সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হন। সেই সময় থেকেই কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে অজিত সক্রিয় হন পাশাপাশি, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রে শরদ পাওয়ারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ১৯৯৫ সালে পুনে জেলার বরামতি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি প্রথমবারের জন্য বিধায়ক হন। এরপর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে আসছেন। ১৯৯৫, ১৯৯৯, ২০০৪, ২০০৯, ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালেও তিনি এই কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করেছেন।
৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে একবার এমপি এবং সাতবার এমএলএ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অজিত পাওয়ার। রাজ্য সরকারের কৃষি, জ্বালানি এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন-সহ সরকারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এক বছরে দুবার উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন অজিত পাওয়ার
২০১৯ সালের পর অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবন বেশ আকর্ষণীয় ছিল। ২০১৯ সালে তিনি দু'জন ভিন্ন মুখ্যমন্ত্রীর আওতায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ২৩ নভেম্বর সকালে তিনি দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তবে ফড়নবিশ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হন। পরে উদ্ধব ঠাকরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং অজিত পাওয়ারকে পুনরায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব। ২০২৩ সালে, তিনি আবারও মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন। এখন পর্যন্ত ছয়বার মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অজিত। তবে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি।
২০২২ সালে কাকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ
অজিত পাওয়ারের রাজনীতির এন্ট্রি ছিল কাকা শরদ পাওয়ারের হাত ধরেই। কিন্তু যখন শরদ পাওয়ার মেয়ে সুপ্রিয়া সুলেকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রচার করতে শুরু করেন, তখন অজিত পাওয়ার ভিন্ন রাজনৈতিক পথ বেছে নেন। তিনি বেশ কয়েকজন এনসিপি নেতার সঙ্গে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকারে যোগ দেন। ২০২৩ সালেই অজিত পাওয়ার সম্পূর্ণ ভাবে এনসিপির নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর ২০২৪ সালে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতেও সফল হন।