Ajmer woman kills: ৪ জনকে হত্যা করে শোকাহতদের সঙ্গে কান্নাকাটি মহিলার, আজমেঢ়ের ঘটনায় চাঞ্চল্য

এ এক রোমহর্ষক বাস্তব কাহিনি। রাজস্থানের আজমেঢ় জেলায় এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শোকাহত নারীদের ভিড়ে বসে কাঁদছিলেন এক মহিলা। বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন। যন্ত্রণায় চিৎকার করে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ভান করছিলেন। আর পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর শোকে ভেসে যাচ্ছিল সবাই। আর সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ। বর্তমানে পুলিশ দাবি করছে, শোক প্রকাশে ব্যস্ত সেই নারীই ছিলেন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী।

Advertisement
৪ জনকে হত্যা করে শোকাহতদের সঙ্গে কান্নাকাটি মহিলার, আজমেঢ়ের ঘটনায় চাঞ্চল্যআজমেরের ঘটনায় চাঞ্চল্য
হাইলাইটস
  • এ এক রোমহর্ষক বাস্তব কাহিনি
  • রাজস্থানের আজমেঢ় জেলায় এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শোকাহত নারীদের ভিড়ে বসে কাঁদছিলেন এক মহিলা
  • যন্ত্রণায় চিৎকার করে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ভান করছিলেন

এ এক রোমহর্ষক বাস্তব কাহিনি। রাজস্থানের আজমেঢ় জেলায় এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শোকাহত নারীদের ভিড়ে বসে কাঁদছিলেন এক মহিলা। বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন। যন্ত্রণায় চিৎকার করে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ভান করছিলেন। আর পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর শোকে ভেসে যাচ্ছিল সবাই। আর সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ। বর্তমানে পুলিশ দাবি করছে, শোক প্রকাশে ব্যস্ত সেই নারীই ছিলেন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী।

পুলিশ জানায়, রাজস্থানের এই বিভীষিকাময় ঘটনায় পরিবারের চার সদস্য, যাঁদের মধ্যে একজন প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন, তাঁদের প্রথমে হত্যা করা হয়। তারপর দেহগুলো একটি স্করপিও এসইউভির ভিতরে ভরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালাতে চেয়েছিল।

আজমের জেলার বরাদা থানার এলাকায় এই ভয়াবহ হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। গ্রামবাসীরা শ্রীরামপুরা গ্রামে জাতীয় সড়কের পাশে একটি জ্বলন্ত স্করপিও দেখতে পান। এটি আজমেঢ় শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে এবং প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে পাওয়া যায়।

গাড়ির ভিতর ও আশপাশ থেকে চারটি দেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে তিনটি দেহ গাড়ির ভিতরে পুড়ে গিয়েছিল। আর একটি দেহ কাছের একটি মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ইতিমধ্যেই মৃতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান রাম সিং চৌধুরি, তাঁর মা পূসী দেবী, দ্বিতীয় স্ত্রী সুর্যগ্যান দেবী এবং তাঁর পিসির মেয়ে মহিমা চৌধুরি।

আজমেরের এসপি হর্ষবর্ধন আগরওয়ালের মতে, হত্যাকারীরা প্রথমে দেহগুলো বাড়ি থেকে গাড়িতে নিয়ে আসে। পরে স্করপিওতে রেখে আগুন লাগিয়ে প্রমাণ ধ্বংস করার চেষ্টা করে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ একটি দুর্ঘটনা বলে সন্দেহ করেছিল। তবে ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তে একের পর এক অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, 'দেহগুলোর আঘাত দেখে বোঝা যায় এটা খুন। প্রমাণ ও স্থানীয় তথ্য ধীরে ধীরে সত্য প্রকাশ করে।'

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রাম সিংয়ের প্রথম স্ত্রী সুনীতা বাড়িতে ছিলেন। তিনি অন্যান্য গ্রামবাসী নারীদের সঙ্গে শোক প্রকাশ করছিলেন। চিৎকার করে কাঁদছিলেন এবং ভেঙে পড়ার অভিনয় করছিলেন।

পুলিশের দাবি, এটি ছিল পুরোপুরি অভিনয়। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, 'তিনি এমনভাবে কাঁদছিলেন যেন তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। শুরুতে কেউ সন্দেহ করেনি।'

প্রথমে পুলিশকে তিনি জানিয়েছিলেন, রাম সিং তাঁর মাকে বুকে ব্যথা হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তদন্তে পরে জানা যায়, দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে রাম সিং ও তাঁর প্রথম স্ত্রী সুনীতার মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। একই বাড়িতে দুই স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা থাকতেন।

এসপি আগরওয়ালা জানান, 'দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধ ছিল। তদন্তে দেখা গিয়েছে, প্রথম স্ত্রী ও তাঁর সন্তানরা রাম সিং এবং তাঁর মায়ের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন।'

পুলিশের মতে, বুধবার রাতে বাড়ির ভিতরে তীব্র ঝামেলা হয়। সেটাই পরে রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডের রূপ নেয়।

তদন্তকারীদের দাবি, সুনীতা তার মেয়ে সরিতা এবং নাবালক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। বাড়ির ভিতরেই আক্রমণ চালানো হয়। পরে দেহগুলো গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে আগুন লাগানো হয়, যাতে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো যায়।

 

POST A COMMENT
Advertisement