
উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। অভিযোগ, বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে আসা এক নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে নববিবাহিত যুবক বাড়ি ছেড়েছেন। নববধূর দাবি, পরিকল্পিতভাবে ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফেলে তাঁর স্বামীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি সরাই ইন্তেজাম আলি এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিলাল নামে এক যুবকের বিয়ে হয় গত ৩ ডিসেম্বর, মুসলিম রীতিনীতি মেনে। দু’দিন পর, ৫ ডিসেম্বর তাঁর বোনের বিয়ের কথা ছিল। ৪ ডিসেম্বর মেহেন্দি অনুষ্ঠানে নাচের জন্য দুই নৃত্যশিল্পীকে ডাকা হয়। তাঁদেরই একজন ছিলেন সোনি ওরফে শবনম, শাহ জামাল এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ, অনুষ্ঠান শেষে সোনিকে বিদায় জানাতে গিয়ে বিলালের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সেখান থেকেই ফোন নম্বর আদান-প্রদান এবং নিয়মিত কথাবার্তার শুরু। ধীরে ধীরে বিষয়টি পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে ওঠে। বিলালের স্ত্রী গুলিস্তা স্বামীর ফোনে দীর্ঘক্ষণ সোনির সঙ্গে কথোপকথনের প্রমাণ পান। এরপরই একদিন আচমকা বাড়ি ছেড়ে চলে যান বিলাল।
১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জয়পুরের একটি হোটেল থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বিলাল ও সোনিকে একসঙ্গে দেখা যায় বলে দাবি পরিবারের। ভিডিও সামনে আসার পর গুলিস্তা পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁর সংসার ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকতে চান এবং তাঁর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন দাবি করেছেন।
বিলালের পরিবার আরও অভিযোগ তুলেছে, সোনি বিভিন্ন বিয়ে ও পার্টিতে নাচতে গিয়ে যুবকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরে তাঁদের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি, গত বছর তাঁর এক কথিত প্রেমিকের মৃতদেহ কবরস্থানে উদ্ধার হয়েছিল বলেও পরিবারের দাবি। যদিও সেই ঘটনার তদন্ত নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
গুলিস্তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নিখোঁজ ব্যক্তির মামলা রুজু করেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবার আতঙ্কিত এবং বিলালের নিরাপদে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।