আলিগড়ের সেই শাশুড়িগত বছর তাঁর হবু জামাইয়ের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া আলিগড়ের শাশুড়ি আবারও খবরের শিরোনামে। প্রায় ১০ মাস ধরে বিহারে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে জামাই রাহুলের সঙ্গে থাকার পর তিনি এখন এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন। এবার তিনি তাঁর ভগ্নিপতির সঙ্গে ২ লক্ষ টাকা নগদ ও গয়না নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন বলে খবর। হতাশ রাহুল আলিগড়ে ফিরে এসেছেন। জটিল এই সম্পর্কের জটে ধন্দে পুলিশও।
মেয়ের বিয়ের আগেই বদলে যায় গল্প
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের এপ্রিলে। আলিগড়ের ওই মহিলার মেয়ের বিযে ঠিক হয় ১৬ এপ্রিল। বাড়িতে রং করার কাজ চলছিল। আত্মীয়স্বজনরা আসছিলেন এবং বিয়ের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছিল। কিন্তু বিয়ের মাত্র ১২ দিন আগে অকল্পনীয় কিছু ঘটে যায়। শাশুড়ি হবু জামাই রাহুলকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান। অভিযো উঠেছিল, তিনি ৩ লক্ষ টাকার গয়না এবং নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। পরিবারের দাবি ছিল, প্রায় ৫ লক্ষ টাকার গয়না এবং সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা নগদের হদিশ মিলছিল না। মহিলার মেয়ে বলেন, 'মা ঘরে ১০ টাকাও রেখে যায়নি।'
মোবাইল কিনে দেওয়ার পর থেকে ঘনিষ্ঠতা
পরিবারের মতে, ওই মহিলার তাঁর হবু জামাইকে একটি স্মার্টফোন উপহার দিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা বাড়তে থাকে। প্রথমে তাঁরা বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতেন। তারপর তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ ফোনালাপ চলত। মহিলার স্বামী জিতেন্দ্র অভিযোগ করেছিলেন, যখন তিনি বিয়ের প্রস্তুতির জন্য বাড়ি ফিরে আসেন, তখন তিনি দেখতে পারন, তাঁর স্ত্রী এবং রাহুলের মধ্যে ১৫-২০ ঘণ্টা ফোনে কথোপকখন চলছে। প্রথমে তিনি এটিকে স্বাভাবিক মনে করেছিলেন কিন্তু সন্দেহ তৈরি হয়।
আলিগড় থেকে 'ভাগলবা' শাশুড়ি-জামাই
বিষয়টি যতক্ষণে জনসমক্ষে আসে ততক্ষণে দু'জন আলিগড় থেকে পালিয়ে কাসগঞ্জ এবং তারপর বরেলি হয়ে বিহারের মুজাফফরপুরে পৌঁছে যান। সেখানে কয়েকদিন ছিলেন। এমনকী, তাঁরা নেপাল সীমান্তে পালিয়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে মোবাইল ফোন চালু করতেই দেখেন সোশ্যাল মিডয়ায় তাঁদের ছবি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ফলে নিজেরাই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। মুজাফফরপুর থেকে বাসে উত্তরপ্রদেশ ফিরে আসেন এবং অবশেষে দাদন থানায় আত্মসমর্পণ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে কী জানিয়েছিলেন শাশুড়ি-জামাই?
শাশুড়ি পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, স্বামী মদ্যপান করে মারধর করতেন। প্রায়শই ঘরে থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিতেন। এমনকী রাহুলের সঙ্গে ফোনে কথা বলায় তাঁদের একসঙ্গে পালিয়ে যাওয়া উচিত বলেই উল্লেখ করেছিলেন মহিলার স্বামী। রাহুলের দাবি ছিল, তিনি হবু শাশুড়িকে আগে থেকেই চিনতেন। মহিলা তাঁর কাছে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, আর বাঁচতে চান না। ফলে তাঁকে একা ছেড়ে দিতে পারেননি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের একসঙ্গে থাকার অনুমতি দেয় পুলিশ।
ঘটনায় নয়া মোড়
১০ মাস একসঙ্গে বিহারে বসবাস করেন ওই মহিলা ও রাহুল। জানা গিয়েছে, স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই সেখানে সংসার পেতেছিলেন তাঁরা। তবে সম্প্রতি রাহুল অভিযোগ তোলেন, ওই মহিলা তাঁরে ছেড়ে নিজের ভগ্নিপতির সঙ্গে কিছু টাকা এবং গয়না নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন। রাহুল বলেন, 'আমি ওঁর জন্য আমার বাড়ি ছেড়েছি। সমাজের অপবাদ সহ্য করেছি। এখন সে আমাকেই ছেড়ে চলে গেল।'