NCPI -র পোস্টারে লেখা, 'দলবদলু মুখ চাই না', অথচ কাকলি-সুদীপদের বিলয় সেই পার্টিতেই, কী রকম?

ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-র সঙ্গে মিশে গেল তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহীদের ব্লক। কাকলি-সুদীপদের এই নয়া পার্টি একটি সময়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই ভোটে লড়েছিল। শুধু তাই নয়, এই দলের ঠিকানা বাংলার, তবে পার্টি ত্রিপুরার। তাদের পোস্টারে লেখা 'দলবদলু মুখ চাই না।'

Advertisement
NCPI -র পোস্টারে লেখা, 'দলবদলু মুখ চাই না', অথচ কাকলি-সুদীপদের বিলয় সেই পার্টিতেই, কী রকম?NCPI আসলে কারা?
হাইলাইটস
  • ঠিকানা বাংলার, দল ত্রিপুরার
  • TMC-র ২০ সাংসদ আসায় অখুশি NCPI নেতা
  • কারা এই NCPI?

'দলবদলানো রাজনৈতিক মুখ চাই না'। ২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশ করার পর এটাই ছিল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-র (NCPI) মূল মন্ত্র। অথচ সেই দলেই কি না মিশে গেলেন তৃণমূল থেকে আসা ২০ জন সাংসদ। ত্রিপুরার এই অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল ভোটে লড়েছে মাত্র একবার। তা-ও আবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে ২টি আসনে। সমাজসেবাই এদের আসল লক্ষ্য। তবে আশ্চর্যজনক ভাবে এই দলের ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায়। কারা এই NCPI? 

কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়েরা জানিয়েছেন, NCPI-এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে NDA-কে সমর্থন করবেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কেন NCPI-ই এই ২০ জনের কাছে পছন্দের দল হয়ে উঠল? NCPI কবে গঠিত হয়েছিল? কারা চালায় এটি? কীভাবে এটি শূন্য থেকে দেশের পঞ্চম বৃহত্তম দলে পরিণত হয়ে গেল রাতারাতি? 

NCPI কবে গঠিত হয়েছিল? 
ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI) ত্রিপুরার একটি রেজিস্টার্ড কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি NCPI গঠিত হয়েছিল। এর নির্বাচনী প্রতীক কলমের নিব। 

নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, দলটি মাত্র ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছিল। NCPI-এর নথিতে শিউলি কুণ্ডুকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আবার জাতীয় সভাপতিও। শিউলি কুণডু NCPI-এর ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ২টি সংস্থার ডিরেক্টর পদেও রয়েছেন। বিশ্ববাজার প্রাইভেট লিমিটেড এবং সমাজ সেবামূলক কাজে জড়িত পশ্চিমবঙ্গ অসংগঠিত মহিলা শ্রমিক সমিতি। 

NCPI-এর রেজিস্টার্ড ঠিকানা বাংলার হাওড়া জেলার বানিপুর এলাকায়। দলটির সভাপতি শিউলি কুণ্ডু, যাঁর স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। 

বাংলায় রেজিস্টার্ড কিন্তু দল ত্রিপুরার 
NCPI তাদের নির্বাচনী যাত্রা শুরু করে ত্রিপুরায়। শান্তনু দে ত্রিপুরার NCPI-এর কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দলটি ত্রিপুরা আদিবাসী এলাকা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদে প্রান্তিক আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার উদ্দেশ্য নিয়ে ত্রিরপুরার রাজনীতিতে প্রবেশ করে। 

Advertisement

NCPI ত্রিপুরার ৭টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্তু ৪টিতে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। ফলস্বরূপ NCPI প্রার্থীরা মাত্র ২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং একটিতে নির্দল প্রার্থীকে সমর্থন দেন। দলটি ছাওমানু আসনে ৫৩৬ ভোট এবং কৈলাশহর আসনে ২৮৬ ভোট পায়। কৃষ্ণকুমার দেববর্মা আমবাসা আসন থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৭৫ ভোট পান। ত্রিপুরা নির্বাচনের পর দলটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। 

শান্তনু দে বলেন, তিনি প্রথমে ২০২৩ সালে হাওড়া থেকেই পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু জিততে পারেননি। জানা গিয়েছে, ত্রিপুরা নির্বাচনের পর অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেখা দেয় এবং অর্থ নিয়ে মতবিরোধের কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। শান্তনু দে-এর কথায়, 'দলের নেতৃত্বকে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু সম্পদের অভাবে সেই প্রস্তাব এগোতে পারেনি।' 

যদিও NCPI ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। শান্তনু দে নিজেকে RSS কর্মী এবং সমাজসেবী হিসেবে দাবি করেছেন। এই দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও বটে। তবে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তাঁদের দলে যোগদানের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে খুশি নন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শান্তনু। তাঁর সাফ কথা,'২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই লড়াই করেছিলাম। রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে NCPI-এর অবস্থান আগাগোড়াই তৃণমূল-বিরোধী।'

 

TAGS:
POST A COMMENT
Advertisement