সরকারি জমিতে নমাজ পড়া কোনও অধিকার নয়সরকারি জমিতে নমাজ বা বড় কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন নিয়ে বড় রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। সম্প্রতি একটি মামলায় হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, নমাজ বা বড় আকারের ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজনের জন্য সরকারি জমি অধিকারবলে ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, সংবিধান যে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দেয়, তা সর্বাংশে নয়; জনশৃঙ্খলা ও অন্যদের অধিকারের অধীন।
কোন মামলায় এমন রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট?
উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার ইকোনা গ্রামের একটি জমিতে নামাজ পড়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা পড়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্টে। সেই আবেদন খারিজ করার সময়ই এমন রায় ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বিচারপতি গরিমা প্রসাদ এবং বিচারপতি সরল শ্রীবাস্তবের একটি ডিভিশন বেঞ্চ।
আবেদনকারীর কী দাবি?
ইকোনা গ্রামের ওই আবেদনকারীর দাবি, ওই জমিটি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সেখানে নমাজ করার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে সুরক্ষা চেয়ে হাজির হন। আবেদনকারীর দাবি, ২০২৩ সালের ১৬ জুন একটি রেজিস্টার করা দানপত্রের মাধ্যমে জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও, তাঁকে ওই জমিতে নমাজ পড়ার ক্ষেত্রে বেআইনি ভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আদালতে যুক্তি দেন, ব্যক্তিগত জমিতে নামাজ পড়তে আলাদা করে অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। তাই এই কাজে বাধা দেওয়া তাঁর সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের কী বক্তব্য?
যোগী সরকারও এই আবেদনের বিরোধিতা করে আদালতে জানায়, রাজস্ব রেকর্ডে জমিটি ‘আবাদি জমি’ হিসেবে রেজিস্টার করা রয়েছে। যা মূলত জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। এছাড়াও, আবেদনকারী জমির বৈধ মালিকানার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও দাবি করে সরকার। লবিট-এর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সরকার আদালতে জানিয়েছে, আবেদনকারীর উদ্ধৃত দানপত্রে জমির অপরিহার্য নানা সংকেতের অভাব রয়েছে। শুধুমাত্র একটা অস্পষ্ট সীমানা ওই 'গিফট ডিড'-এ উল্লেখিত রয়েছে। যা জমির মালিকানার প্রমাণ দেয় না।
লবিট-এর রিপোর্ট মোতাবেক, আদালতে উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, বহু আগে থেকেই ওই স্থানে শুধু ইদের সময়ই নামাজ পড়া হত। ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসা এমন অনুষ্ঠানের উপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। কিন্তু সরকারের দাবি, আবেদনকারী গ্রামের ভেতর ও বাইরে থেকে লোকজনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়মিত নমাজ পড়ার বিষয়টি ওই জমিতে চালু করতে চাইছেন। যা স্থানীয় সামাজিক ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে।
হাইকোর্ট কী বলছে?
এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায়ে জানিয়েছে, সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিলেও, তা সুস্পষ্টভাবে জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের আওতায় পড়ে। আদালতের বক্তব্য, রাস্তায় চলাচল বা নাগরিক শৃঙ্খলাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনও জায়গায় এমন নিয়মিত ভাবে ধর্মীয় আচার পালন করা যাবে না।
লবিট-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে আদালত ব্যক্তিগত উপাসনা এবং সংগঠিত ধর্মীয় সমাবেশের মধ্যে পার্থক্যও তুলে ধরেছে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, পরিবারের মধ্যে বা সীমিত ব্যক্তিগত পরিসরে ব্যক্তিগত প্রার্থনা সুরক্ষিত। কিন্তু, যখন বৃহত্তর আকারে বা সমাবেশ বা সর্বজনীন আকারে এমন ধর্মীয় আয়োজন করা হয়, তখন রাজ্য সরকার চাইলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কারণ এক্ষেত্রে জনস্বার্থ জড়িয়ে যায়।
হাইকোর্টের বেঞ্চের বক্তব্য, এক্ষেত্রে প্রশাসনকে কোনও গোলোযোগ ঘটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। কোনও কার্যকলাপে যদি পাবলিক অর্ডার বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে প্রাভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে।
অন্যদিকে, এই মামলাটির ক্ষেত্রে যেহেতু আবেদনকারী জমির মালিকানা প্রমাণ করতে পারেনি, তাই আবেদম খারিজ করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।