কিন্নরদের টাকা চাওয়া কি আইন-সম্মত? বড় নির্দেশ আদালতের

যখনই উপহার নিয়ে এই ধরনের বিবাদ হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে—এভাবে কিন্নর কি আদৌ টাকা নিতে পারেন? কারণ, অনেক ক্ষেত্রে টাকা আদায় করতে গিয়ে কিছু কিন্নর খারাপ আচরণ করেন।

Advertisement
কিন্নরদের টাকা চাওয়া কি আইন-সম্মত? বড় নির্দেশ আদালতের  কিন্নর সমাজ
হাইলাইটস
  • বিয়ে বা কোনও শিশুর জন্মের মতো শুভ অনুষ্ঠানে প্রায়ই কিন্নররা
  • অনেকেই খুশি মনে তাঁদের উপহার দিয়ে থাকেন

বিয়ে বা কোনও শিশুর জন্মের মতো শুভ অনুষ্ঠানে প্রায়ই কিন্নররা উপহার বা টাকা নিতে আসেন। অনেকেই খুশি মনে তাঁদের উপহার দিয়ে থাকেন। তবে অনেক সময় পছন্দমতো উপহার বা টাকা না পেলে কিন্নরদের সঙ্গে ঝামেলা হয়। আশেপাশে এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই দেখা যায়।

যখনই উপহার নিয়ে এই ধরনের বিবাদ হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে—এভাবে কিন্নর কি আদৌ টাকা নিতে পারেন? কারণ, অনেক ক্ষেত্রে টাকা আদায় করতে গিয়ে কিছু কিন্নর খারাপ আচরণ করেন। এমনকী আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের সঙ্গে ঝগড়া বা হিংসার ঘটনাও সামনে আসে। আবার কখনও একই জায়গায় একাধিক কিন্নর গোষ্ঠী পৌঁছে গেলে নিজেদের মধ্যে বিবাদ বাড়ে, ফলে বিয়ে বা জন্মোৎসবের মতো আনন্দঘন পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকেই বাধ্য হয়ে তাঁদের দাবি মেনে নেন।

উপহার আদায় কি বেআইনি?

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে—কিন্নরদের নেগ চাওয়া কি তাঁদের অধিকার, নাকি তা বেআইনি? সাম্প্রতিক এক রায়ে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে। আদালত এক কিন্নরের দায়ের করা মামলায় জানিয়েছে, উপহার আদায় করা আইনসম্মত নয় এবং তা অবৈধ। মামলাটি দায়ের করেছিলেন গোঁদা জেলার এক কিন্নর, যিনি বহু বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় উপহার বা টাকা সংগ্রহ করতেন। সম্প্রতি অন্য একটি কিন্নর গোষ্ঠী সেই এলাকায় প্রবেশ করায় বিরোধ তৈরি হয়। উল্লেখ্য, কিন্নর সম্প্রদায়ের মধ্যে সাধারণত বিভিন্ন এলাকায় নেগ সংগ্রহের জন্য আলাদা ভাগ থাকে, যাতে সংঘর্ষ এড়ানো যায়। এই পরিস্থিতিতে আবেদনকারী আদালতের কাছে নিরাপত্তা এবং নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণের আবেদন জানান।

তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, এই ধরনের কার্যকলাপকে আইন কোনওভাবেই সুরক্ষা দিতে পারে না। কারণ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপহার সংগ্রহ করার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। আবেদনকারী দাবি করেছিলেন, বিয়ে বা সন্তানের জন্মের সময় উপহার নেওয়ার প্রথা বহু পুরনো, তাই এটি তাঁদের ঐতিহ্যগত অধিকার। কিন্তু আদালত জানায়, এমন কোনও প্রথার আইনি স্বীকৃতি নেই।

Advertisement

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কোনও নাগরিকের কাছ থেকে শুধুমাত্র সেই কর, সেস বা ফি নেওয়া যেতে পারে, যা আইন দ্বারা নির্ধারিত। আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কারও কাছ থেকে টাকা বা উপহার আদায় করার অধিকার কারও নেই। অর্থাৎ, কিন্নর হোক বা অন্য কেউ—আইনে উল্লেখিত পদ্ধতি ছাড়া টাকা আদায় করা অপরাধ। ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২৬ অনুযায়ী, আদালত জানিয়েছে—কোনও দাবিকে তখনই বৈধ বলা যায়, যখন তা আইনের দ্বারা সমর্থিত হয়। সেই ভিত্তিতে এই আবেদন খারিজ করা হয়েছে।

আদালত তার রায়ে Transgender Persons (Protection of Rights) Act, 2019-এর কথাও উল্লেখ করে জানিয়েছে, এই আইনের মধ্যেও উপহার আদায়ের কোনও অধিকার স্বীকৃত নয়।
 

POST A COMMENT
Advertisement