অমিত শাহ ও রাহুল গান্ধী অসমের গুয়াহাটির একটি সভা থেকে কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ভারতের ভাবমূর্তি ও দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বারবার ছোটো করার চেষ্টা করছেন।
বক্তৃতায় শাহ বলেন, সংসদ দেশের গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান, অথচ সেই সংসদের সিঁড়িতেই বসে রাহুল গান্ধী চা ও পাকোড়া খাচ্ছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ সংসদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং আন্তর্জাতিকস্তরেও ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।
শাহ বলেন, 'কখনও কখনও তিনি সংসদের দরজায় বসে চা আর পাকোড়া খান। তিনি কি বুঝতে পারেন না সকালের খাবার খাওয়ার জন্য উপযুক্ত জায়গা কোনটি? সংসদ আমাদের গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। সেখানে বসে প্রতিবাদ করাও গণতান্ত্রিক রীতি নয়। কিন্তু আপনারা প্রতিবাদের থেকেও দুই ধাপ এগিয়ে গিয়েছেন। সেখানে বসে চা ও পাকোড়া খাচ্ছেন। এতে সারা বিশ্বে ভারতের বদনাম হচ্ছে।'
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির বিরোধিতা করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী এখন ভারতেরই বিরোধিতা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, 'মোদীজি এবং বিজেপির বিরোধিতা করতে করতে রাহুল গান্ধী এখন ভারতেরই বিরোধিতা করতে শুরু করেছেন।'
শাহ আরও অভিযোগ করেন, সংসদের ভিতরে বিতর্কে অংশগ্রহণ না করে রাহুল গান্ধী বারবার এড়িয়ে যান। তাঁর কথায়, 'আমাদের বিরোধিতা করুন, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন, যত খুশি করুন। কিন্তু সংসদে কথা বলুন। সেখানে না বলে বাইরে নাটক করা গণতন্ত্রের পক্ষে ভালো নয়।'
এদিনের বক্তব্যে শাহ দিল্লিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্মেলনের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, এই সম্মেলন ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় AI সম্মেলন, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে আয়োজিত হয়। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশের বড় বড় সংস্থার সিইও এবং ২২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা শীর্ষ প্রতিনিধিরা ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
শাহের কথায়, ওই সম্মেলনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ভারতের প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার দিকটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের সময় কংগ্রেসের কিছু নেতা প্রতিবাদ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্মেলনের সময় কিছু ব্যক্তি অর্ধনগ্ন অবস্থায় প্রতিবাদ জানালে রাহুল গান্ধী তাঁদের সমর্থন করেছিলেন। শাহ বলেন, 'ক্ষমা চাওয়ার বদলে রাহুল গান্ধী বলেছেন, যারা ওইভাবে প্রতিবাদ করেছেন তাঁরা বাব্বর শের। কিন্তু সত্যিটা হল দেশের মানুষ এই ধরনের আচরণ সমর্থন করতে পারে না।'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, এই ধরনের ঘটনাগুলি দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এবং বিশ্বের সামনে ভারতের শক্তি ও যুবসমাজের সম্ভাবনাকে আড়াল করে দেয়। তাঁর কথায়, 'যখন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ভারতে আসে আমাদের শক্তি ও সম্ভাবনা দেখতে, তখন এই ধরনের কাজ সেই সম্ভাবনাকেই ক্ষুণ্ণ করে। দেশের মানুষ এটা মেনে নেবে না।'