সাইবার ক্রাইম নিয়ে সতর্ক করলেন অমিত শাহAmit Shah Alert National Security Cyber Crime Threat: দেশে দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লিতে সাইবার জালিয়াতি প্রতিরোধ নিয়ে আয়োজিত এক জাতীয় সম্মেলনে এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা চুরি হয়ে শত্রু রাষ্ট্র ও শক্তির কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধীরা আর বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে না। তারা সংগঠিত, প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রশাসনের থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকছে। এই পরিস্থিতিতে সিবিআই, এনআইএ, আরবিআই, রাজ্য পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার মধ্যে আরও শক্ত সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জোর দেন।
সম্মেলনে সরকারের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। অমিত শাহ জানান, এখন পর্যন্ত ১২ লক্ষের বেশি সন্দেহজনক সিম কার্ড বাতিল করা হয়েছে, ৩ লক্ষ মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর ব্লক করা হয়েছে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০,৮৫৩ জন সাইবার অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করাও সম্ভব হয়েছে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের কৌশল সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রিয়েল-টাইম ক্রাইম রিপোর্টিং, আই৪সি (I4C) প্ল্যাটফর্ম, ফরেনসিক ল্যাব, দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং সাইবার হাইজিন, এই সবকিছুকে একসঙ্গে নিয়ে এগোনো হচ্ছে। পাশাপাশি আই-ফোর্সের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান আরও মজবুত হয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই সব কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণে ‘চেন অফ কাস্টডি’-র ঘাটতি মামলার সাজা নিশ্চিত করতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, সব দিক থেকে তথ্য ফাঁস রুখতে হবে এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ‘মিউল হান্টার’ সফটওয়্যারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। দেশজুড়ে সচেতনতা এবং দৃঢ় মানসিকতা ছাড়া এই লড়াই জেতা সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।