বিয়ের দিনক্ষণ প্রায় ঠিক, কলকাতার অনামিকা ও হবু স্বামী নীলেশের একসঙ্গেই মৃত্যু কোচিং সেন্টারের আগুনে

লখনউয়ের একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে দিল একাধিক পরিবারের স্বপ্ন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে বসার অপেক্ষায় থাকা এক তরুণ-তরুণী, নীলেশ কুমার ও অনামিকা সামন্ত। তাঁদের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারেই।

Advertisement
বিয়ের দিনক্ষণ প্রায় ঠিক, কলকাতার অনামিকা ও হবু স্বামী নীলেশের একসঙ্গেই মৃত্যু কোচিং সেন্টারের আগুনেফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • লখনউয়ের একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে দিল একাধিক পরিবারের স্বপ্ন।
  • নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে বসার অপেক্ষায় থাকা এক তরুণ-তরুণী, নীলেশ কুমার ও অনামিকা সামন্ত।

লখনউয়ের একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে দিল একাধিক পরিবারের স্বপ্ন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে বসার অপেক্ষায় থাকা এক তরুণ-তরুণী, নীলেশ কুমার ও অনামিকা সামন্ত। তাঁদের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারেই।

অনামিকার বাড়ি কলকাতায়। কর্মসূত্রে তিনি লখনউয়ে থাকতেন। যে অ্যানিমেশন সংস্থায় তিনি কাজ করতেন, সেখানেই সহকর্মী হিসেবে পরিচয় হয় নীলেশের সঙ্গে। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় পরিণত হয় ভালোবাসায়। পরে দুই পরিবারও তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেয় এবং বিয়ের বিষয়ে সম্মতি জানায়। গত সপ্তাহেই অনামিকার বাবা-মা কলকাতা থেকে লখনউয়ে গিয়ে নীলেশের পরিবারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের আলোচনা সেরে এসেছিলেন।

সোমবার আলিগঞ্জ এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগে। ওই ভবনেই চলত একটি অ্যানিমেশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বহু শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিতরে আটকে পড়েন। ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন।

নিহতদের তালিকায় রয়েছেন ২৭ বছরের নীলেশ ও ৩০ বছরের অনামিকা। শুধু তাই নয়, একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনামিকার ২৭ বছরের খুড়তুতো বোন সোমিল্যাও, যিনি ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। নীলেশের পরিবারের কাছে সোমবার সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিয়েছিলেন তিনি। কেউ ভাবতেও পারেননি, সেটাই হবে শেষ দেখা।

শোকে ভেঙে পড়া নীলেশের বাবা শত্রুঘ্ন লাল বলেন, “ছেলেটা প্রতিদিন হাসিমুখে কাজে যেত। কখনও ভাবিনি, সেই দিনটাই ওকে শেষবারের মতো দেখব। সেই মুহূর্তটাই বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।” তিনি প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, তদন্ত বা সরকারি আশ্বাস কি আর তাঁর ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে পারবে? অন্যদিকে, নীলেশের মা ছেলের নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে নির্বাক হয়ে বসে রয়েছেন।

বিয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল দুই পরিবার
দুর্ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেও দুই পরিবার বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত ছিল। অনামিকার বাবা-মা পশ্চিমবঙ্গ থেকে লখনউয়ে গিয়ে নীলেশের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পরিচয়পর্ব সম্পন্ন হয়েছিল, এমনকি একটি ছোট পারিবারিক অনুষ্ঠানও হয়েছিল।

Advertisement

পরিবারের সদস্যদের দাবি, কর্মস্থলেই প্রথম পরিচয় হয়েছিল নীলেশ ও অনামিকার। বন্ধুত্ব থেকে গড়ে ওঠে প্রেম। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে সেই সম্পর্ক বিয়ের দিকে এগোয়। আগামী সপ্তাহেই নীলেশের পরিবারের পশ্চিমবঙ্গে আসার কথা ছিল। বিয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করার জন্য ট্রেনের টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছিল। বাড়িতে তখন উৎসবের আবহ। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব আনন্দ শোকে পরিণত হয়।

অপূর্ণ রয়ে গেল নতুন জীবনের স্বপ্ন
তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় নীলেশকে পরিবারের সদস্যরা পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও স্বপ্নবাজ যুবক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও ছিল তাঁর সামনে। নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর আগামী বছর বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সেই লক্ষ্যে নিয়মিত সঞ্চয়ও করছিলেন।

কিন্তু সোমবারের ভয়াবহ আগুন মুহূর্তের মধ্যে সব স্বপ্ন ছাই করে দেয়। যে দুই পরিবার বিয়ের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তারা এখন প্রিয়জনদের শেষ বিদায়ের শোক সামলাতে ব্যস্ত।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য গাফিলতি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। তবে তদন্তের ফল যাই হোক না কেন, দুটি পরিবারের কাছে এই ক্ষতি কোনও দিনই পূরণ হওয়ার নয়। যে গল্পটি দুই তরুণ-তরুণীর নতুন জীবনের সূচনা হওয়ার কথা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত পরিণত হল এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে।

 

POST A COMMENT
Advertisement