India Today Conclave 2026: অনিল আগরওয়ালের দাবি, দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে ভারত কোনওভাবেই পিছিয়ে নেই। India Today Conclave 2026: জ্বালানি সংকট। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতেই দেশের জ্বালানির নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন শিল্পপতি অনিল আগরওয়াল(Anil Agarwal)। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা। এহেন প্রেক্ষাপটে তাঁর দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে ভারত কোনওভাবেই পিছিয়ে নেই। তবে সেই সম্পদকে কাজে লাগাতে পলিসিতে কিছু পরিবর্তন জরুরি।
বেদান্ত গ্রুপের কর্ণধার বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবুও ভারতের হাতে যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, দেশের মাটির নীচে সোনা, রূপো, তামা, বক্সাইট থেকে শুরু করে তেল ও গ্যাস; প্রায় সব ধরনের সম্পদই রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকলে উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।
অনিল আগরওয়াল জানান, ভারতের কোম্পানিগুলির প্রযুক্তি ও দক্ষতার ঘাটতি নেই। প্রয়োজনে উৎপাদন ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর সক্ষমতাও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে গেলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে সহজ করতে হবে। তাঁর মতে, বর্তমানে খনি সংক্রান্ত নিলাম থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে একটি খনি চালু হতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগে।
শিল্পপতির বক্তব্য, দেশের মোট আমদানির একটি বড় অংশই মাটির নীচের সম্পদের উপর নির্ভরশীল। তাঁর দাবি, ভারতের আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশই এমন খনিজ সম্পদ যা দেশের মধ্যেই পাওয়া সম্ভব। তাই আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া দরকার। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। আগরওয়ালের দাবি, বিশ্বের অনেক দেশই চায় ভারত যেন কেবল বড় একটি বাজার হিসেবেই থেকে যায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ চায় না যে ভারত তেল ও গ্যাস উৎপাদনে বড় শক্তি হয়ে উঠুক। কারণ তেমনটা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রভাব কমে যেতে পারে।
তিনি মনে করেন, ভারতের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে খনিজ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সেই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও তিনি জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, যদি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো না যায়, তবে ভবিষ্যতেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির উপর নির্ভর করতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে অনিল আগরওয়াল ‘সেলফ সার্টিফিকেশন’-এর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, ব্যবসা ও শিল্পক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপ কমিয়ে উদ্যোক্তাদের আরও স্বাধীনতা দিলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এতে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং খনিজ ও জ্বালানি খাত দ্রুত এগোতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের জনসংখ্যা বিপুল হওয়ায় ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদা দ্বিগুণ হতে পারে। তাই এখন থেকেই পরিকল্পনা করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কয়লা সহ বিকল্প শক্তির উৎসগুলিকেও কাজে লাগাতে হবে বলে মত তাঁর।