১৪০ কিমি বেগে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব, ঠিক কবে সবচেয়ে শক্তিশালী হবে অর্ণব?অবশেষে 'অর্ণব' এসে গেল। IMD-র শঙ্কা সত্যি করে সোমবার গভীর নিম্নচাপটি পরিণত হল ঘূর্ণিঝড়ে। এই ঘূর্ণিঝড়েরই নাম দেওয়া হয়েছে অর্ণব। অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে এরফলে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা।
বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের শ্রী বিজয়পুরম থেকে প্রায় ৫৯০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ৬৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ৭৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, মছলিপত্তনম থেকে ৮৩০ কিলোমিটার পূর্বে এবং বাপটলা থেকে ৯১০ কিলোমিটার পূর্বে বঙ্গোপসাগরে রয়েছে।
এরপর ধীরে ধীরে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে। তারপর মধ্যরাতের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও শক্তি বাড়িয়ে নিতে পারে সিস্টেমটি। সেক্ষেত্রে এটি পরিণত হবে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে। তারপর ২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার একই অঞ্চলে সেটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সিস্টেম বলছে, ২৮ অক্টোবর সকালেই বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। সেক্ষেত্রে কোন দিন'অর্ণব'-এর দাপট সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে, বুঝে নিন।
২৬ অক্টোবর বিকেলে এই ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান হতে পারে বঙ্গোপসাগরের ১৫.২° উত্তর, ৮৭.২° পূর্ব স্থানে। এই সময় ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ৮৫ থেকে ১০৫ কিমি।
২৭ তারিখ সকাল থেকেই ঘূর্ণিঝড় ভয়ঙ্কর হতে পারে। ১০০ কিমি ঘণ্টা প্রতি গতিবেগ থেকে শুরু করে ১২০ কিমি বেগে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসবে অর্ণব। এই সময় এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে থাকবে। এরপর ২৭ অক্টোবর দুপুর ঘুর্ণিঝড় থাকবে ১৫.৮° উত্তর, ৮৪.০° পূর্ব অবস্থানে। এই সময় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫–১২৫ কিমি, ঝোড়ো হাওয়ার দমকা ১৪০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে।
একই অবস্থা বজায় থাকবে ২৮ তারিখ সকাল পর্যন্তও। এই সময় ১৬.৪° উত্তর, ৮২.৬° পূর্ব অবস্থানে থাকবে ঘূর্ণিঝড়। ততক্ষণে উপকূলের কাছে এসে যাবে ঘূর্ণিঝড়। আর এই সময়ও ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫–১২৫ কিমি, ঝোড়ো হাওয়ার দমকা ১৪০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। যা আঘাত হানবে বিশাখাপত্তনম সংলগ্ন উপকূলে। এই ২৭ দুপুরের পর থেকে ২৮ অক্টোবর দুপুর পর্যন্তই সবচেয়ে শক্তিশালী হবে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব।
২৯ তারিখ সকাল থেকে ক্রমশ শক্তি কমবে এই ঝড়ের। ক্রমশ শক্তি কমে গভীর নিম্নচাপ ও নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে । ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগের উপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে শক্তি হারাতে পারে।