
দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় বেকসুর খালাস হলেন AAP সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মণীশ সিসোদিয়া। তাঁদের এই মামলা থেকে রেহাই দিল দিল্লির কোর্ট। এই দুই নেতার বিরুদ্ধে যে সমস্ত ধারায় মামলা হয়েছিল, সেগুলি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ফলত বিরাট স্বস্তি পেলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রী। ক্লিন চিট পেয়ে আদালত চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন কেজরিওয়াল। বললেন, 'সত্যের জয় হয়েছে।'
কী রায় আদালতের?
দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তাঁর উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে আবগারি দুর্নীতি মামলা থেকে এদিন অব্যাহতি দিয়ে জানিয়েছে, মামলাটি বিচারপর্বে যাওয়ার জন্য যে ন্যূনতম মানদণ্ড থাকে, তা পূরণ করতে ব্যর্থ।
শুক্রবার আদালত মন্তব্য করে, 'গুরুতর অভিযোগ অবশ্যই বস্তুগত প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। ষড়যন্ত্রের ভূমিকায় যে আরোপ করা হয়েছে, তা নথিপত্রে টেকসই নয়।' এছাড়া আদালত বলে, 'উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যদি প্রামাণ্য না হয় তাহলে জনআস্থা ক্ষুন্ন হয়।'
আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, আবগারি নীতির পিছনে কোনও সামগ্রিক ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক অভিপ্রায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন কেজরি
জামিনের পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সংবাদমাধ্যের ক্যামেরার সামনে ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, 'ম্যায় কট্টর ইমানদার।' কেজরিওয়ালের কথায়, 'কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমি কেবল সততাই অর্জন করেছি।' এরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে তিনি বলেন, 'ক্ষমতার জন্য সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা না করে জনগণের সেবা করে ক্ষমতায় থাকা উচিত। আদালতের রায় আমার নির্দোষ সত্তার প্রমাণ। সত্যের জয় হোক। সংবিধানকে যেন উপহাসে পরিণত না করা হয়। দুর্নীতি, বেকারত্ব ও দূষণের মতো বাস্তব সমস্যার সমাধান করার বদলে কেন নির্বাচিত সরকার ভাঙার চেষ্টা করা হল?'
কেজরিওয়াল কথা বলতে গিয়ে থেমে যান, চশমা খুলে চোখ ঢেকে ফেলেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। সমর্থকেরা তাঁর পাশে থাকার বার্তা দেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মণীশ সিসোদিয়া তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। কেজরিওয়াল সিসোদিয়ার বুকে মুখ গুঁজে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।