
এবার আসাদউদ্দিন ওয়েইসির জনসভার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল মুসলিমরাই। অল ইন্ডিয়া মজলিসে-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বা AIMIM-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির সভা ঘিরে বিরোধিতা মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। তাও আবার প্রতিবাদ করছে সেখানকারই একটি মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন।
আদতে ওয়েইসিকে দেশের মুসলিম রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওয়াইসি তাঁর দলকে জাতীয় পর্যায়ে প্রসারিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন গত কয়েক বছর ধরেই। সেই লক্ষ্যেই ভোপালের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি চত্বরে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর একটি বড় জনসভার আয়োজন করছিল AIMIM। কিন্তু সেই সভারই প্রতিবাদে শামিল হয়েছে মধ্যপ্রদেশ মুসলিম উৎসব কমিটি।
সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বেশ কিছুদিন ধরেই মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা করছেন। মঙ্গলবার ভোপালে মুসলিম ইস্যু নিয়ে ওয়েইসির ওই সমাবেশ করার কথা। যার জন্য প্রশাসন সেন্ট্রাল লাইব্রেরি চত্বরে সভা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছেও। কিন্তু, মুসলিম উৎসব কমিটি এই সমাবেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
মুসলিম উৎসব কমিটি ভোপাল প্রশাসনের কাছে ওয়েইসির প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানের অনুমতি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ওয়েইসির সমাবেশ ভোপালের পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে, কারণ তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে। মুসলিম কমিটি প্রশাসনকে জানিয়েছে, ভোপালের গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতি রক্ষার জন্য আসাদুদ্দিন ওয়েইসির কর্মসূচি বাতিল করা উচিত, কারণ তাঁর মন্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এবং শহরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হতে পারে।
সংগঠনটির যুক্তি, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি কমপ্লেক্স, যেখানে ওয়েইসির অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে বর্তমানে গণেশোৎসব উপলক্ষে বহু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। এমন পরিবেশে যে কোনও উস্কানিমূলক বা সংবেদনশীল মন্তব্য উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
ভোপাল মুসলিম উৎসব কমিটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলার আশঙ্কায় যদি বিজেপি বিধায়ক টি. রাজা সিং-এর অনুষ্ঠানের অনুমতি না দেওয়া হয়, তাহলে ওয়েইসির অনুষ্ঠানকে কেন অনুমতি দেওয়া হলো? একই যুক্তিতে আসাদুদ্দিন ওয়েইসির অনুষ্ঠানের অনুমতিও বাতিল করা উচিত বলে দাবি করছেন তাঁরা। মুসলিম সংগঠনগুলো মনে করে, ওয়েইসির আগ্রাসী রাজনীতি সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়কে বিভক্ত করছে, যা শেষ পর্যন্ত স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষতি করছে। তাই তারা ওয়েইসির সমাবেশ বাতিলের দাবি জানাচ্ছে।