'অরুণোদয়' প্রকল্পে প্রায় ৪০ লক্ষ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিল অসম সরকার।Assam Orunodoi Scheme: সামনেই ভোট অসমে। তার ঠিক আগে আগে সরাসরি ৯ হাজার টাকা ঢুকল মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। 'অরুণোদয়' প্রকল্পে প্রায় ৪০ লক্ষ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিল অসম সরকার। তবে এই প্রকল্প নিয়ে আপাতত রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে। অনেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা টানছেন।
মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। রাজ্য সরকারের দাবি, এই অর্থ মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও আত্মসম্মান বৃদ্ধি করবে।
অসম সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রায় ৪০ লক্ষ পরিবার এই সুবিধা পেয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলারা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। শুধু গুয়াহাটির মূল অনুষ্ঠানই নয়, পাশাপাশি গোটা রাজ্যে ৩,৮০০-রও বেশি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
'অরুণোদয়' প্রকল্প কী?
২০২০ সালে 'অরুণোদয়' প্রকল্প শুরু করে অসমের বিজেপি সরকার। এই প্রকল্পে প্রত্যেক এলিজেবল পরিবারের একজন মহিলা প্রতি মাসে ১,২৫০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পান।
তাহলে ৯ হাজার টাকা কেন দেওয়া হল?
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এ ব্যাপারে আগেই ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ২০২৬-এর জানুয়ারি থেকে চার মাসের টাকা একসঙ্গে করে দেওয়া হবে। তার সঙ্গে বোহাগ বিহু উৎসব উপলক্ষে অতিরিক্ত অনুদানও যোগ হবে। সব মিলিয়ে এই দফায় সবার অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, এই প্রকল্পের সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, 'অন্য রাজ্যের মতো এখানে নির্বিচারে সুবিধা দেওয়া হয় না। নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মহিলাদের জন্যই এই প্রকল্প। এটি নিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনা, ভোটের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।'
তিনি আরও দাবি করেন, যদি নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এই প্রকল্প তৈরি করা হত, তবে তা রাজ্যের প্রত্যেক মহিলাকেই দেওয়া হত। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, 'গত ছয় বছর ধরে আমরা অরুণোদয় প্রকল্প চালাচ্ছি। বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যের মূল কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব। কোনও কল্যাণমূলক প্রকল্প নয়।'
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মহিলা ভোটারদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এই ধরনের প্রকল্প এখন বিভিন্ন রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক মহিলা প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পান। সেই কারণে অসমের ‘অরুণোদয়’ প্রকল্প এবং বাংলার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মধ্যে তুলনাও টানছেন অনেক বিশ্লেষক।
সব মিলিয়ে মহিলা-নির্ভর কল্যাণমূলক প্রকল্প এখন রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। অসমে ৯ হাজার টাকা এককালীন দেওয়ার এই উদ্যোগ সেই বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনে দিল।