ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের রেজাল্ট আউটছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের রেজাল্ট আউট। আর এই ফলগণনায় অবিশ্বাস্য পরিবর্তন দেখল বাংলার মানুষ। চমকপ্রদ পালাবদল ঘটে গিয়েছে তামিলনাড়ুতেও। অন্যদিকে, প্রত্যাশা মতোই অসমের ঘাঁটি সুরক্ষিত রেখেছে বিজেপি। পাশাপাশি পালাবদল প্রথার উপর ভরসা রেখেই কেরলে গড়ে উঠতে চলেছে কংগ্রেস সরকার। তবে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অঘটন ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে বিজেপি অবিশ্বাস্য মার্জিনে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে পদচ্যুত করেছে।
অসম
অসমে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়লাভ করেছে বিজেপি। এই জয় রাজ্যে দলটির প্রভাব এবং সরকারের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন বলেই দাবি করেছে বিজেপি। বিশেষ করে চা বাগান এলাকা এবং গ্রামীণ অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত সমর্থন এই জয়ের একটি প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। অসমে কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় মুখ এবং সাংসদ গৌরব গগৈও জোরহাট থেকে নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন।
তামিলনাড়ু
চমকপ্রদ রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী তামিলনাড়ু। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বিজয় রুপানির দল TVK আচমকাই নিজেদের প্রথম নির্বাচনেই ১০০টিরও বেশি আসন জিতে নিজেদের সর্বশক্তিশালী দল হিসেবে প্রমাণ করেছে। ক্ষমতায় থাকা দল DMK-কে বিপুল মার্জিনের ব্যাবধানে পরাজিত করেছে TVK। তামিলনাড়ুতে TVK যেখানে ১০৮-টি সিট জিতেছে, সেখানে DMK আসন পেয়েছে ৬০টি। অন্যদিকে, এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন।
কেরল
১০ বছর পর কেরলে ক্ষমতাচ্যুত হল বামেরা। সরকারবিরোধী মনোভাব, কর্মসংস্থান এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো বিষয় নিয়ে জনগণের ক্ষোভ কেরলে বাম সরকারের পতন ঘটিয়েছে। কংগ্রেস ক্ষমতাধীন জোট ইউডিএফ ৯৯টি আসন জিতেছে, আর বামফ্রন্টের আসন সংখ্যা কমে ৩৫-এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, তিরুঅনন্তপুরমের তিনটি আসনেই জয়ী হয়েছে বিজেপি।
পুদুচেরি
নিজেদের কাজে জনসমর্থন পেয়ে পুদুচেরিতে ক্ষমতা ধরে রেখেছে NDA। ভোটাররা BJP-র জোটের অবস্থানকেই আরও শক্তিশালী করেছে। বিজেপির জয়ের পর দলীয় সদর দফতরে কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে রেকর্ড সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি এবং নারী ভোটারদের বেশি অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন।
পশ্চিমবঙ্গ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় ২০০টিরও বেশি আসন জিতে ব্যাপক মার্জিনে জয় লাভ করেছে BJP। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৮১টি আসন। এমনকি মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ও নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর আসনেও হেরেছেন। অন্যদিকে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই আসনেই জয় লাভ করেছে শুভেন্দু অধিকারী।