উত্তরপ্রদেশে ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবপ্রবল ঝড়বৃষ্টি ও দমকা হওয়ায় বেসামাল উত্তরপ্রদেশ। রাজ্যের একাধিক জেলায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে খবর মিলছে। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে বাড়িঘর। বিস্তির্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গিয়েছে রাস্তা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রয়াগরাজে প্রবল ধুলোর ঝড় ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, হান্ডিয়ায় ৭ জন, ফুলপুরে ৪ জন, সোরাঁওয়ে ৩ জন এবং মেজায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হান্ডিয়া, সোরাঁও, ফুলপুর ও মেজা এলাকায়।
প্রবল ঝড়ে প্রয়াগরাজ জুড়ে বহু বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। বহু প্রাচীন গাছ রাস্তার উপর ভেঙে পড়েছে। যার ফলে যান চলাচল ব্যাহত। পুলিশ লাইন্সের ২ নম্বর গেটের কাছে শতাব্দীপ্রাচীন একটি নিমগাছ উপড়ে পড়ে। গাছটি মটোরসাইকেল এবং একটি টয়োটা ফর্চুনার গাড়িকে চাপা দেয়। ওদিকে মায়োহল চৌরাস্তা ও কাটরা সংযোগকারী রাস্তায় গাছ পড়ে যায়। সেখানেও যান চলাচল বন্ধ। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিনোদ পটেল জানান, পাথর গির্জাঘর, অশোক নগর, কচেহরি রোড এবং মহাত্মা গান্ধী মার্গ-সহ একাধিক এলাকা থেকে গাছ পড়ার খবর এসেছে।
ঝড়ের কারণে প্রয়াগরাজের বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে রাস্তা থেকে গাছ সরানোর কাজ শুরু করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, কাজ চলছে। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
এই বিপর্যয় প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলাশাসক কুনওয়ার বিরেন্দ্র কুমার মৌর্য জানান, ঝড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হয়ে পড়েছে। তাই উদ্ধার কাজে সমস্যা হচ্ছিল।
পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বদায়ুঁ জেলায় ঝড়ের জন্য আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই নাবালিকা রয়েছে। এছাড়াও ৫ জন আহত হয়েছেন।
ও দিকে বিসৌলি থানার অন্তর্গত সিদ্ধপুর কৈঠোলি গ্রামে ঝড়ের সময় একটি কুঁড়েঘরের কাদামাটির দেওয়াল ভেঙে পড়ায় মৌসুমি (১০) ও রজনী (৯) নামে দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়। প্রবল ঝড় শুরু হলে তারা আরও দুই মহিলার সঙ্গে ওই ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল। দুর্ঘটনায় দুই মহিলা গুরুতর আহত হন।
অন্য একটি ঘটনায়, ফৈজগঞ্জ বেহটা থানার টার্ক পারোলি গ্রামে ঝড় থেকে বাঁচতে একটি টিউবওয়েল ঘরে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজনের উপর গাছ ভেঙে পড়ে। ঘটনায় লক্ষ্মী (৪০) নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়। ঘরের ছাদ ধসে পড়ায় গীতা নামে এক মহিলাসহ আরও তিনজন আহত হন। গীতার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
বিসৌলি এলাকার বিলসি রোডের কাছে একটি ইউক্যালিপটাস গাছ উপড়ে ট্রাকের উপর পড়ায় ট্রাকচালক যোগেশ (৩২)-এর মৃত্যু হয়। এছাড়াও বিসৌলির সাহুকারা এলাকার বাসিন্দা অংশুল শর্মা (২২) ঝড়ের সময় বাবার জন্য খাবার নিয়ে যাওয়ার পথে গাছ চাপা পড়ে মারা যান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) হৃদেশ কুমার কাটারিয়া জানান, বিসৌলি ও ফৈজগঞ্জ বেহটা থানার এলাকায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত ৫ জন।