Khamenei India Connection: উত্তরপ্রদেশের গ্রাম থেকে ইরানের মসনদ, ভারতের সঙ্গে কী যোগ ছিল খামেনেইয়ের?

ভারতের সঙ্গে নিবিড় যোগ ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের। উত্তপ্রদেশের গ্রামে কার জন্ম হয়েছিল? ভারতের বাসিন্দা হিসেবে দাগিয়ে ইরানে কারাবাসের সাজা শোনানো হয়েছিল কাকে?

Advertisement
উত্তরপ্রদেশের গ্রাম থেকে ইরানের মসনদ, ভারতের সঙ্গে কী যোগ ছিল খামেনেইয়ের? ইরানের সুপ্রিম লিডারের সঙ্গে ভারতের কী যোগ?
হাইলাইটস
  • ভারতের সঙ্গে নিবিড় যোগ ছিল খামেনেইয়ের
  • উত্তরপ্রদেশের গ্রামে কে জন্মেছিলেন?
  • ইরানে অবৈধ ঘোষিত হয়ে সাজা খেটেছিলেন কে?

উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য। ইজরায়েল এবং মার্কিন সেনার যৌথ অভিযানে ইরানে পরের পর হামলা চলছে। এই আক্রমণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত। ইরানও খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তেড়েফুঁড়ে উঠেছে। তাদের হুঁশিয়ারি, 'সবচেয়ে ভয়ানক হামলা চালানো হবে।' তবে জানেন কি ইরানের এই সুপ্রিম লিডারের রয়েছে ভারত যোগ? 

আয়াতোল্লাহ খামেনেইয়ের পরামর্শদাতা ছিলেন রুহতোল্লাহ খোমেইনি। তিনি ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাসীন ছিলেন ইরানে। তাঁর সঙ্গে ভারতের নিবিড় যোগ ছিল। এই রুহতোল্লা খামেনেই প্রথম জীবনে উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকির বাসিন্দা ছিলেন। তেহরানে রাজনৈতিক পুনর্নির্মাণের কারিগর বলা হয় তাঁকেই। 

৭-এর দশকের শেষ দিকে, তেহরানের রাজনীতিকে নতুন রূপ দিয়েছিলেন রুহতোল্লাহ খোমেইনি। তাঁর ছবি দেখা যায় ইরানের মুদ্রা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, সর্বত্রই। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি ১৯৭৯ সালে ইরানি ইসলামি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। শাহ মহম্মদ রোজা পাহলভির সরকারকে উৎখাত করে দেশে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনিই। 

ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের আবহে আয়াতোল্লাহ খামেনেই নিহত হওয়ার পর রুহতোল্লাহর কথাও উঠে এসেছে চর্চায়। তাঁর পরিবার উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে যুক্ত। জানা গিয়েছে, রুহতোল্লার দাদা সৈয়দ আহমেদ মুসাভি উত্তরপ্রদেশের বারবাঁকি জেলার কিন্টুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। যা শিয়া মুসলিম বৃত্তির একটি প্রধান কেন্দ্র। মুসাভি তাঁর নামের সঙ্গে হিন্দি যোগ করে ভারতের প্রতি তাঁর স্নেহ এবং ভালোবাসা প্রকাশ করেছিলেন। পরিবারটি মূলত আঠারো শতকের শেষের দিকে ইরান থেকে দেশান্তরিত হয়েছিল। ভারতে তাঁদের আসার লক্ষ্য ছিল শিয়া ইসলাম প্রচার করা। কারণ ইরানি শিয়া পণ্ডিতরা সেই সময়ে লখনউ, বারাবাঁকি এবং হায়দরাবাদের মতো অঞ্চলে এসেছিলেন এবং নবাবদের পৃষ্ঠিপোশকতা পেয়েছিলেন। 

তবে সেই সময়ে ইরানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং অস্থিতিশীলতার কারণে মুসাভি এবং তাঁর পরিবার ধর্মীয় সাধনা এবং উন্নত জীবনের জন্য ভারতকে বেছে নিয়েছিলেন। মুসাভি পরে ইরাক হয়ে ইরানে ফিরে যান। যেখানে তিনি তাঁর পরিবার নিয়ে থেকেছেন। রুহতোল্লাহ খোমেইনি ছিলেন এই পরিবারের বংশধর, যিনি ইরানে ইসলামি বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 

Advertisement

রেজা পাহলভির সরকার খোমেইনিকে বিদেশি, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করে আক্রমণ শানিয়েছিল সে সময়ে। এমনকী তাঁকে অবৈধ ঘোষণা করে কারাবাসের সাজাও দিয়েছিল। তবে নির্বাসনে খামেনেই স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর পূর্বপুরুষরা ধর্ম প্রচারের জন্য ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন এবং তাঁর শিকড় ছিল ইরানেই। এটি শাহের সরকারকে দুর্বল করে দেয় এবং খামেনেইয়ের প্রতি জনসমর্থন বাড়ায়। 

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লব সফল হয় এবং রুহতোল্লাহ খোমেইনি সর্বোচ্চ নেতা হন। শিষ্য এবং যোগ্য উত্তরসূরি আয়াতোল্লাহ খামেনেই তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। 

 

POST A COMMENT
Advertisement