মাঘী পূর্ণিমায় চিরনিদ্রায় রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিতরাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সত্যেন্দ্র দাস প্রয়াত। তিনি ৮৫ বছর বয়সে লখনউ পিজিআই-তে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর ৩ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অবস্থায় আচার্য সত্যেন্দ্র দাসকে লখনউ পিজিআই-এর নিউরোলজি ওয়ার্ডের এইচডিইউতে ভর্তি করা হয়। আচার্য সত্যেন্দ্র দাসের শিষ্য প্রদীপ দাস জানিয়েছেন যে দীর্ঘ অসুস্থতার পর, এদিন সকাল ৮টার দিকে লখনউয়ের পিজিআইতে তিনি মারা যান। তার মরদেহ পিজিআই থেকে অযোধ্যায় আনা হচ্ছে। তাঁর শিষ্যরা তাঁর দেহ নিয়ে অযোধ্যার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। আগামিকাল (১৩ ফেব্রুয়ারি) অযোধ্যার সরযূ নদীর তীরে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি, পিজিআই একটি স্বাস্থ্য বুলেটিন জারি করে জানিয়েছে যে সত্যেন্দ্র দাস ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো গুরুতর রোগে ভুগছেন।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও আচার্য সত্যেন্দ্র দাসের সুস্থতা সম্পর্কে জানতে এসজিপিজিআই-তে পৌঁছেছিলেন। শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাসকে পক্ষাঘাতের (স্ট্রোক) কারণে ২ ফেব্রুয়ারি প্রথমে অযোধ্যার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, সেখান থেকে ডাক্তাররা তাকে SGPGI-তে রেফার করেছিলেন। এসজিপিজিআই হাসপাতাল প্রশাসনের মতে, আচার্য সত্যেন্দ্র দাস ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো গুরুতর রোগেও ভুগছিলেন।
আচার্য সত্যেন্দ্র দাসের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, "পরম রাম ভক্ত, শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির, শ্রী অযোধ্যা ধামের প্রধান পুরোহিত আচার্য শ্রী সত্যেন্দ্র কুমার দাস জি মহারাজের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি! আমি ভগবান শ্রী রামের কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর আত্মাকে চরণকমলে স্থান দেন এবং শোকাহত শিষ্য ও অনুসারীদের এই অপরিসীম ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেন।"
परम रामभक्त, श्री राम जन्मभूमि मंदिर, श्री अयोध्या धाम के मुख्य पुजारी आचार्य श्री सत्येन्द्र कुमार दास जी महाराज का निधन अत्यंत दुःखद एवं आध्यात्मिक जगत की अपूरणीय क्षति है। विनम्र श्रद्धांजलि!
— Yogi Adityanath (@myogiadityanath) February 12, 2025
प्रभु श्री राम से प्रार्थना है कि दिवंगत पुण्यात्मा को अपने श्री चरणों में स्थान दे…
আচার্য সত্যেন্দ্র দাস ছিলেন রাম জন্মভূমির প্রধান পুরোহিত। তিনি ছোটবেলা থেকেই অযোধ্যায় থাকতেন। দাস প্রায় ৩৩ বছর ধরে রামলালা মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯২ সালে বাবরি ধ্বংসের আগেও তিনি এই মন্দিরে পুজো করতেন। তিনি রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
আচার্য সত্যেন্দ্র দাসের যাত্রা
১৯৯২ সালে বাবরি ধ্বংসের প্রায় নয় মাস আগে থেকে রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সত্যেন্দ্র দাস পুরোহিত হিসেবে রাম লালার পুজো করে আসছিলেন। আচার্য সত্যেন্দ্র দাস ১৯৭৫ সালে সংস্কৃত বিদ্যালয় থেকে আচার্য ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পর, ১৯৭৬ সালে, তিনি অযোধ্যার সংস্কৃত কলেজের ব্যাকরণ বিভাগে সহকারী শিক্ষকের চাকরি পান। বিতর্কিত কাঠামো ভেঙে ফেলার পর, ৫ মার্চ, ১৯৯২ তারিখে, তৎকালীন রিসিভার তাঁকে পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত করেন। প্রথম দিকে তিনি মাসিক পারিশ্রমিক হিসেবে মাত্র ১০০ টাকা পেতেন, কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তা বাড়তে শুরু করেছিল। ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি মাত্র ১২ হাজার মাসিক সম্মানী পেতেন, কিন্তু রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর তার বেতন বেড়ে ৩৮,৫০০ টাকা হয়। আচার্য সত্যেন্দ্র দাস সন্ত কবির নগরের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে, তিনি অযোধ্যায় আসেন এবং অভিরামদাসের শিষ্য হন। অভিরাম দাস জিই হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ১৯৪৯ সালে মন্দিরে রাম লালার মূর্তি স্থাপন করেছিলেন। আচার্য সত্যেন্দ্র দাস জি, রাম বিলাস বেদান্তী এবং হনুমান গড়ির সন্ত ধর্মদাস, তিনজনই গুরু ভাই। ১৯৯২ সালে বাবরি ধ্বংসের সময় সত্যেন্দ্র দাস জি রাম লালার মূর্তিগুলি কোলে করে সরিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্রী রাম জন্মভূমির প্রধান পুরোহিত ছিলেন।