Ram Mandir Case: পুরনো চ্যাট থেকে ২ কোটি টাকা চুরির রহস্য ফাঁস তদন্তকারীদের

রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনায় বড় রহস্য উন্মোচন! ১ বছর পুরোনো ডেটা উদ্ধার, চ্যাট থেকে ২ কোটি টাকা চুরির রহস্য উন্মোচিত।

Advertisement
রাম মন্দির: পুরনো চ্যাট থেকে ২ কোটি টাকা চুরির রহস্য ফাঁস তদন্তকারীদেররাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনায় বড় রহস্য উন্মোচন!
হাইলাইটস
  • রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনায় বড় রহস্য উন্মোচন।
  • চ্যাট থেকে ২ কোটি টাকা চুরির রহস্য ফাঁস।
  • প্রায় এক বছর আগে মুছে ফেলা ডেটাও উদ্ধার করা হয়েছে।

অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান চুরির তদন্তে বড় মোড়। অভিযুক্তেরা যে মোবাইলের চ্যাট ও ডেটা ডিলিট করেছিলেন, সেগুলিই এখন তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাইবার ফরেন্সিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রায় এক বছর আগের ডিলিট করা ডেটা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সেই ডিজিটাল তথ্য থেকেই ২ কোটিরও বেশি টাকার চুরির সম্ভাব্য হদিশ মিলেছে। সব মিলিয়ে অযোধ্যার ঘটনায় যে পুলিশ তদন্তে বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখতে নারাজ, তা স্পষ্ট।

অযোধ্যা পুলিশ সূত্রে খবর, সাইবার সেলের সহায়তায় অভিযুক্তদের মোবাইলের ব্যাকআপ উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেন্সিক পরীক্ষায় শুধু পুরনো মোবাইলের তথ্যই নয়, প্রায় এক বছর আগে মুছে ফেলা চ্যাট, ফাইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই তথ্যগুলি গোটা ঘটনার টাইমলাইন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, অভিযুক্তেরা আগেই মোবাইল বদলে ফেলেছেন এবং পুরনো ফোনের সমস্ত তথ্য মুছে দিয়েছেন। সেই কারণেই সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হয়। তদন্তে মূল অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্ল এবং অনুকল্প মিশ্রের বর্তমান মোবাইল ফোনের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরনো এবং নতুন ডিভাইসের তথ্য মিলিয়ে পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে।

চ্যাটে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিবাদের ইঙ্গিত
তদন্তে উদ্ধার হওয়া চ্যাট থেকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি পুলিশ সূত্রের। জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুকল্প মিশ্র এবং লাভকুশ মিশ্রের মধ্যে চুরির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। চ্যাটে অভিযোগ করা হয়েছে, একজন অপরজনের প্রাপ্য টাকা পুরোপুরি দেয়নি। তদন্তকারীদের মতে, এই কথোপকথন চুরির অভিযোগকে আরও জোরালো করতে পারে।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া তথ্য থেকে ২ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেনের ইঙ্গিত মিলেছে। এখন সেই চ্যাটে উল্লেখ থাকা অঙ্কের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি ডিজিটাল তথ্য এবং ব্যাঙ্ক রেকর্ডের মধ্যে মিল পাওয়া যায়, তা হলে তদন্তে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ধরা হতে পারে।

Advertisement

নতুন মোবাইল কিনেও এড়ানো গেল না তদন্ত
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক জন অভিযুক্ত নতুন মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু করেছিলেন। পুলিশের অনুমান, পুরনো ডিজিটাল প্রমাণ আড়াল করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা নতুন মোবাইলের তথ্যও পরীক্ষা করছেন। পুরনো ফোন থেকে নতুন ফোনে কোনও তথ্য স্থানান্তর হয়েছিল কি না, কিংবা অন্য কোনও মাধ্যমে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং সম্পত্তির হদিসেও নজর
মোবাইলের তথ্যের পাশাপাশি অভিযুক্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছে তদন্তকারী দল। চ্যাটে যে টাকার অঙ্কের উল্লেখ রয়েছে, সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা খুঁজে দেখছেন, ওই টাকায় কোনও গাড়ি, মোটরবাইক, বাড়ি বা অন্য সম্পত্তি কেনা হয়েছিল কি না।

তদন্তে উঠে এসেছে, মূল অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্ল নাকি চুরির টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কিনেছিলেন। তবে সেটি নিজের নামে নয়, ভাই অভিষেকের নামে কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে গাড়িটি প্রতাপগড়ের গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রিমান্ড চলাকালীন অভিযুক্তের দেখানো জায়গা থেকেই সেই গাড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এখন সেই অর্থ দিয়ে আরও কী কী সম্পত্তি কেনা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের পরিধি এখন অযোধ্যার বাইরে প্রতাপগড় পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। পুলিশ অবিনাশকে নিয়ে তাঁর গ্রামেও যায়। সেখানে মোটরবাইক-সহ আরও কিছু জিনিস উদ্ধার এবং বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশও পরিবারের আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করছে।

এদিকে আদালতের অনুমতি মিললে জেলে থাকা আরও পাঁচ অভিযুক্ত; অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, রামাশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, করুণেশ পাণ্ডে এবং মনীশ যাদবকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্তকারী দল 

POST A COMMENT
Advertisement