রাম মন্দিরের অনুদান চুরি কীভাবে চলত?অযোধ্যা রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের মধ্যে একজন জানিয়েছেন, চুরি করা টাকা বের করার আগে কিছু সময়ের জন্য একটি শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি ধরা পড়া এড়ানোর জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতি এবং অনুদান গণনার পদ্ধতির ত্রুটি সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন। সূত্র জানায়, আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর পুলিশ মঙ্গলবার অবিনাশ শুক্লাকে প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তিনি কোটি কোটি টাকা চুরির কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিবরণ দেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় মন্দিরের ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের নাম আবার উঠে আসে। অভিযুক্ত দাবি করেছেন, অনুদান গণনার প্রক্রিয়ায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মন্দিরের ব্যবস্থাপনা ও তদারকি পদ্ধতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান তদন্তের মুখে গত সপ্তাহে অনিল মিশ্র এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় পদত্যাগ করেন। অবিনাশ শুক্লা ছাড়াও এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া অন্য সাতজনের মধ্যে রয়েছেন রামশঙ্কর ওরফে তিনু যাদব (যিনি চম্পত রায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত), কাউন্টিং ইনচার্জ সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং গণনার কর্মী অনুকল্প মিশ্র, লব কুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, রাম শঙ্কর মিশ্র ও করুণেশ পান্ডে।
সূত্রমতে, অবিনাশ শুক্লা পুলিশকে জানিয়েছেন, অনুদান গণনার ঘরের একটি চাবি তিনু যাদবের কাছে ছিল, আর অন্যটি ছিল ব্যাঙ্কের কর্মচারীদের কাছে। তিনি দাবি করেন, এই চুরিটি বেশ কয়েকজনের সমন্বয়ে করা হয়েছিল। একজন টাকা সংগ্রহ করত, আর বাকিরা তাকে ঘিরে ধরে টাকা লুকিয়ে ফেলত বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের জানানো হয়, অভিযুক্ত সবাই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে লাগানো ক্যামেরাগুলোর অবস্থান জানত। অভিযোগ, তারা ধরা পড়া এড়াতে এই তথ্য ব্যবহার করে বাথরুমের মতো জায়গায় টাকা লুকিয়ে রাখত, যাতে পরে সুযোগ পেলে তা বের করে নেওয়া যায়। অবিনাশ শুক্লা আরও দাবি করেন, ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাকে কম সন্দেহ করা হতো এবং তার ওপর নজরদারিও কম ছিল।
নজরদারি ব্যবস্থা ও অর্থের উৎস সন্ধান
অভিযুক্তরা পুলিশকে আরও জানায়, মন্দির চত্বরের ভেতরে লাগানো ক্যামেরাগুলো একটি কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা হতো, কিন্তু পর্যবেক্ষণকারী কর্মীরা তাদের কার্যকলাপ সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করত না। এদিকে, অবিনাশ শুক্লার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, চুরি করা টাকা দিয়ে জমি ও একটি বাড়ি কেনা হয়েছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ এখন অভিযুক্তের আর্থিক তথ্য ও সম্পদ খতিয়ে দেখছে। এই চুরি কতদিন ধরে অলক্ষ্যে চলছিল এবং এতে অন্য কোনও ব্যক্তি জড়িত ছিল কিনা, সেদিকেও তদন্ত নজর রাখছে।
SIT তদন্তের আগেই ৫৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার
চুরির অভিযোগের পর, মামলাটি তদন্তের জন্য উত্তর প্রদেশ সরকার ১৩ জুন একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। তবে, এই সপ্তাহের শুরুতে জানা যায়, মামলায় এফআইআর দায়ের হওয়ার আগেই, অর্থাৎ ৫ জুন ট্রাস্টটি অবিনাশ শুক্লার বাড়ি থেকে ৫৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিল। এদিকে, বাকি টাকা ৫ থেকে ৮ জুনের মধ্যে ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়। এতে বোঝা যায় যে, মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগেই আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল।